|

নীল উইলিয়ামস

২ জুলাই, ১৯৬২ তারিখে সেন্ট ভিনসেন্টের হোপওয়েল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

তেরো বছর বয়সে পরিবারের সাথে ইংল্যান্ড অভিবাসিত হন। কিশোর অবস্থাতেই হর্নসি সি. সি. ও এমসিসি ইয়ং প্রফেসনালসের প্রতিনিধিত্ব করেন। ‘নীলি’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৯৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স ও মিডলসেক্স; অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে তাসমানিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কর্নওয়ালের পক্ষে খেলেছেন।

১৯৮২ থেকে ১৯৯৪ সময়কালে মিডলসেক্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৮৪ সালে মিডলসেক্স কর্তৃপক্ষ তাঁকে কাউন্টি ক্যাপ প্রদান করে। ১৯৩টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৪৭৯ উইকেট দখল করেন। ১৯৯২ সালে লর্ডসে গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৮/৭৫ লাভ করেন। ঐ খেলায় তিনি ১৩৯ রান খরচায় ১২ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৯১ সালে এজবাস্টনে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৭৭ রান তুলেন।

১৯৯০ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৩ আগস্ট, ১৯৯০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে সফররত ভারতের বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত উইনওয়ার্ড আইল্যান্ডস, ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে শেফিল্ড শীল্ডে তাসমানিয়া ও ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে ইংলিশ কাউন্টিজ একাদশের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯৪ সালে মিডলসেক্সে আর্থিক সুবিধে গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সময়কালে এসেক্সের পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবন শেষ করেন। ১৯৯৬ সালে এসেক্সের ক্যাপ লাভ করেন। ১৭ বছরের অধিক প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে ৬৭৫ উইকেট দখল করেছেন ও ৪৪৫৭ রান তুলেছেন। ২০০০ সালে মাইনর কাউন্টিজ চ্যাম্পিয়নশীপে কর্নওয়ালের পক্ষে খেলে ট্রফি জয়ে ভূমিকা রাখেন।

এক পর্যায়ে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে ফিরে যান। অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। দুইবার বিয়ে করেন। উভয় সংসারেই একটি করে পুত্র সন্তান রয়েছে। সেন্ট ভিনসেন্টে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। অতঃপর, ২৭ মার্চ, ২০০৬ তারিখে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪৩ বছর ২৬৮ দিন বয়সে কিংস্টনের হাসপাতালে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন সেন্ট ভিনসেন্ট কিশোর একাডেমির কোচের দায়িত্বে ছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট