২৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৭ তারিখে তাসমানিয়ার হোবার্টে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিং ও ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।
‘ওয়াডে’ ডাকনামে ভূষিত ম্যাথু ওয়েড ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি (১.৭০ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ২০০৬ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে খেলেছেন। এ পর্যায়ে ক্লাব ক্রিকেটে ক্ল্যারেন্স ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন।
তাসমানিয়ার প্রতিভাবান ফুটবলারের স্বীকৃতি পান। পরবর্তীতে ভিক্টোরিয়ায় ক্রিকেট জীবন শুরু করেন। ১৬ বছর বয়সে অণ্ডকোষের ক্যান্সারের চিকিৎসা করেন। নতুন জীবন পেয়ে উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে ভিক্টোরিয়ায় যুক্ত হন। দুই বছরের মধ্যে দলের প্রধান উইকেট-রক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে অগ্রসর হন।
২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে তাসমানিয়া ও ভিক্টোরিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, হোবার্ট হারিকেন্স, মেলবোর্ন রেনেগাডেস ও মেলবোর্ন স্টার্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৪ অক্টোবর, ২০০৭ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সাউথ অস্ট্রেলিয়া বনাম ভিক্টোরিয়ার মধ্যকার খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। অভিষেক খেলায় ৮৩ রান ও ছয়টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন।
২০০৯-১০ মৌসুমের শেফিল্ড শীল্ডের চূড়ান্ত খেলায় ৯৬ রানের মূল্যবান রান সংগ্রহ করে বুশর্যাঞ্জার্স দলের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ঐ মৌসুমে ৬৭৭ রান তুলেন। পরের গ্রীষ্মে আরও ৫৫৩ রান তুলে টি২০আই খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।
২০১১ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করছেন। ১৩ অক্টোবর, ২০১১ তারিখে কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ২০১২ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে ত্রি-দেশীয় সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ তারিখে মেলবোর্নে ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।
২০১১-১২ মৌসুমে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৭ এপ্রিল, ২০১২ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তিনি ব্যক্তিগত সমস্যায় জর্জরিত ব্র্যাড হাড্ডিনের স্থলাভিষিক্ত হন। সুযোগ গ্রহণে তৎপর হন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২৮ ও ১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। রায়ান হ্যারিসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে ৩ উইকেটে জয় পেলে সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০১২-১৩ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৯ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৯ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের অসাধারণ দ্বি-শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই মৌসুমে নিজ দেশে মাহেলা জয়াবর্ধনে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। প্রথম ইনিংসে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। অবশ্য, দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, জ্যাকসন বার্ডের অনবদ্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় তুলে নেয়ার পাশাপাশি ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০১৬-১৭ মৌসুমে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীসহ সমসংখ্যক রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, ডেভিড ওয়ার্নারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২২০ রানে জয় পেয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০১৭ সালে স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি স্ট্যাম্পিং ও সমসংখ্যক ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, নাথান লায়নের স্মরণীয় বোলিংয়ের কল্যাণে ৭ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষম হয়।
অবশ্য, ভারত সফরে তাঁর ব্যাটে রান খরা চলে আসে ও গ্লাভসেও তেমন আশানুরূপ ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। এক পর্যায়ে পুণরায় দলে ফিরে আসেন। অ্যাশেজ সিরিজে সহঃঅধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। ২০১৯ সালের অ্যাশেজে দুইটি শতরানের ইনিংস খেলেন।
২০১৯ সালে টিম পেইনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১৬ ও ৩৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্টিভেন স্মিথের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৮৫ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১৯ ও ১১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। জোফ্রা আর্চারের অনবদ্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৩৫ রানে পরাভূত হলে সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে শেষ হয়।
২০২০-২১ মৌসুমে নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৮ ও ৩৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। দলীয় অধিনায়ক টিম পেইনের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীতে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৭ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩ ও ৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্টিভেন স্মিথের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ১৫ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৫ ও ০ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ঋষভ পন্তের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কারণে সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয়লাভ করলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ করায়ত্ত্ব করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
চলচ্চিত্র দেখতে বেশ ভালোবাসেন। ‘হ্যাপি গিলমোর’ চলচ্চিত্রটিকে পছন্দের শীর্ষে রেখেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। জুলিয়া ব্যারি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির উইন্টার ওয়েড নাম্নী কন্যা রয়েছে।
