৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে তাসমানিয়ার হোবার্টে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং ও ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশগ্রহণ করেছেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

‘কিড’ ডাকনামে ভূষিত টিম পেইন ১.৮০ মিটার উচ্চতার অধিকারী। লডারডেল প্রাইমারিতে অধ্যয়নের পর রকবি হাইয়ে পড়াশুনো করেন। এরপর, রসনি কলেজে ভর্তি হন। অ্যাডাম গিলক্রিস্টের সমকক্ষ না হলেও ব্যাট হাতে ঝলকানী তোলার পাশাপাশি উইকেটের পিছনেও বেশ বিশ্বস্ততা ধরে রেখেছেন। কিশোর বয়সেই নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তাসমানিয়ার অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, ২০০৪ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দলের নেতৃত্বে ছিলেন।

২০০৫-০৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে তাসমানিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, হোবার্ট হারিকেন্স, পুনে ওয়ারিয়র্স ও বিশ্ব একাদশের পক্ষে খেলেছেন। ১২ ডিসেম্বর, ২০০৫ তারিখে হোবার্টে অনুষ্ঠিত তাসমানিয়া বনাম সাউথ অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। তবে, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। ব্যাটিংয়ে প্রভূত্ব দেখিয়ে ২১৫ রান তুলেন।

২০০৬-০৭ মৌসুমে তাসমানিয়ার পক্ষে একদিনের খেলায় সর্বাধিক রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। এছাড়াও, ঐ মৌসুমে ২১টি ডিসমিসাল ঘটিয়ে দলের প্রধান উইকেট-রক্ষকে পরিণত হন। এরপর থেকে ব্যাটিং ও উইকেট-রক্ষণের যৌথ দায়িত্ব পালন সঠিকভাবে সামলাতে থাকেন। এরপর, অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে দারুণ খেলেন। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় দলে খেলার জন্যে মনোনীত হন।

২০০৯ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করছেন। ২৮ আগস্ট, ২০০৯ তারিখে এডিনবরায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ব্র্যাড হাড্ডিনের আঘাতের কারণে তিনি খেলার সুযোগ পান। ২৯ রান সংগ্রহ করেন ও একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। এর এক মাস পর ট্রেন্ট ব্রিজে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১১১ রান তুলেন। এছাড়াও, একই বছরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত টি২০আইয়ে প্রথমবারের মতো খেলেন। ঐ বছরের শেষদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতায় সফলতার সাথে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০০৯ সালের বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। তবে, খেলার কোন সুযোগ পাননি।

২০১০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। গ্লাভস হাতে বেশ ভালো খেলেন। ১৩ জুলাই, ২০১০ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। স্টিভ স্মিথের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৭ ও ৪৭ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, পাঁচটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, সায়মন ক্যাটিচের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে অস্ট্রেলিয়া দল ১৫০ রানে জয় পায় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে তাঁর দল এগিয়ে যায়।

অক্টোবরে মোহালিতে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ৯২ রানের উৎসাহব্যঞ্জক ইনিংস উপহার দেন। তবে, এক মাস পরই আঙ্গুলের আঘাতে কাবু হয়ে পড়েন। পাঁচবার অস্ত্রোপচার করতে হয় ও খেলোয়াড়ী জীবন শেষ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় ভুগেন। প্রায় দুই মৌসুম খেলার জগৎ থেকে দূরে থাকার পর তাসমানিয়া ও হোবার্ট হারিকেন্সের পক্ষে খেলতে নামেন।

২০১৮-১৯ মৌসুমে নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ ও ৪১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। চেতেশ্বর পুজারা’র ব্যাটিং দাপটে স্বাগতিকরা ৩১ রানে পরাভূত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২২ ও ২৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, জসপ্রীত বুমরা’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৩৭ রানে জয় তুলে নেয় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, ৩ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০১৯ সালে অজি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৫৮ ও ২৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। স্টিভ স্মিথের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৮৫ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১ ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। জোফ্রা আর্চারের অনবদ্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৩৫ রানে পরাভূত হলে সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে শেষ হয়।

২০২০-২১ মৌসুমে নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৭৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে সাতটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। তাঁর অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীতে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

একই সফরের ১৫ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫০ ও ২৭ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে শার্দুল ঠাকুরের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, ঋষভ পন্তের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কারণে সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয়লাভ করলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ করায়ত্ত্ব করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আইপিএলে পুনে ওয়ারিয়র্স ইন্ডিয়ার সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ২০১৬ সালে বনি পেইন নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে।

সম্পৃক্ত পোস্ট