|

ম্যাথু এলিয়ট

২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ তারিখে ভিক্টোরিয়ার চেলসী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘হার্ব’ ডাকনামে ভূষিত ম্যাথু এলিয়ট ১.৮৮ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও ভিক্টোরিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগন ও ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চণ্ডীগড় লায়ন্স ও আইসিএল বিশ্ব একাদশের পক্ষে খেলেছেন।

১৯৯৬ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্ট ও একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নিজ দেশে কোর্টনি ওয়ালশের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। শুরুটা দারুণ হলেও পরবর্তীতে ধারাবাহিকতার অভাব লক্ষ্য করা যায়। ২২ নভেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। মাইকেল কাসপ্রোভিচের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ০ ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইয়ান হিলি’র অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১২৩ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ২৯ নভেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ২৯ ও ৭৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের চতুর্থ দিন দলীয় সংগ্রহ ৫৫ ওভারে ১৪৩/২ থাকাকালে মার্ক ওয়াহ’র সাথে পিচের মাঝামাঝি জায়গায় ধাক্কাধাক্কির কবলে পড়েন। এরফলে, হাঁটুতে গুরুতর আঘাত পেলে তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়। এরপর আর মাঠে নামতে পারেননি। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অনিন্দ্যসুন্দর অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১২৪ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

ঐ মৌসুমের শেষদিকে অ্যাশেজ সিরিজে অংশ নেন। শতক হাঁকান ও ভবিষ্যতের তারকা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হতে থাকেন। তবে, ছন্দ ধরে রাখা ও সাজঘরে অনুপস্থিতির বিষয়টি খেলোয়াড়ী জীবনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। প্রায়শঃই সাময়িকভাবে তাঁকে দল থেকে বের করে দেয়া হয়। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম শেষে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে কিছুটা স্থিতাবস্থা আসে।

১৯৯৭ সালে মার্ক টেলরের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৭ আগস্ট, ১৯৯৭ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৬৯ ও ৩৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইয়ান হিলি’র অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ২৬৪ রানে জয় পেয়ে সফরকারীরা ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, ২১ আগস্ট, ১৯৯৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১২ ও ৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ফিল টাফনেলের চমৎকার বোলিংশৈলীর কল্যাণে ১৯ রানে জয়লাভ করলেও স্বাগতিকরা ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৩০ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮ ও ৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে শন পোলকের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৩ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ১৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক ব্রায়ান লারা’র অসাধারণ দ্বি-শতকের (২১৩) কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনতে সমর্থ হয়।

আবারও শুরুরদিকে প্রবৃত্তি বিরাজমান থাকে। পাঁচ বছর দলের বাইরে থাকেন। পুরা কাপে দারুণ খেলে তাঁকে আবারও দলে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে, টেস্ট প্রত্যাবর্তনটি সুখকর হয়নি ও আর তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়নি। ২০০৪ সালে নিজ দেশে মারভান আতাপাত্তু’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১ জুলাই, ২০০৪ তারিখে ডারউইনে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। উভয় ইনিংসে চামিণ্ডা ভাসের শিকারে পরিণত হন। তবে, গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৪৯ রানে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার পর ঘরোয়া আসরের ৫০-ওভারের খেলায় বেশ সফলতার সন্ধান পান। কিন্তু, জাতীয় দলে ফিরে আসার সম্ভাবনা কম থাকায় ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সালে ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। অনেকের ন্যায় তিনিও অনুমোদনহীন ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগে যুক্ত হন।

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত এফআর কাপে সাউথ অস্ট্রেলিয়া বনাম তাসমানিয়ার মধ্যকার একদিনের খেলায় সর্বশেষ অংশ নেন। রেডব্যাকসের নেতৃত্বে ছিলেন। ১১ এপ্রিল, ২০১৫ তারিখে ফিলিপ হিউজের স্মরণে ৬৩ ওভারের খেলায় টিম রেড দলের সদস্যরূপে বিশ্বকরের সাথে খেলার সম্মতি জানান। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ তারিখে হ্যারিসের সাথে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অধিকারী হন।

১৯৯৮ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। জ্যাক, স্যাম ও উইল নামীয় ত্রয়ীপুত্রের জনক।

সম্পৃক্ত পোস্ট