কুশল সিলভা

২৭ মে, ১৯৮৬ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক ও ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ২০১০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

সেন্ট টমাস কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। অসাধারণ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে কৌশলগতভাবে সফল ছিলেন। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাসনাহিরা নর্থ ও সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ক্রমাগত শতক হাঁকানোর ফলে দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টিগোচরীভূত হন। এ পর্যায়ে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দলে উইকেট-রক্ষকের প্রাচুর্য্যতা লক্ষ্য করা যায় ও তাঁকে আর নিরাশ করা যায়নি। তবে, ভারসাম্যপূর্ণ দলে এক ঝাঁক তরুণ ব্যাটসম্যানের অন্তর্ভুক্তিতে টেস্ট দলের বাইরে ছিলেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সুন্দর খেলা প্রদর্শন অবশেষে বাস্তবে রূপ নেয়। তিলকরত্নে দিলশানের অবসর গ্রহণের পর টেস্ট একাদশে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের শূন্যতা দেখা যায়। এ পর্যায়ে তিনি নিজ নামের পার্শ্বে ২৭টি প্রথম-শ্রেণীর শতক লিখেছিলেন। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে ঐ অবস্থানে তেমন ব্যাটিংয়ে নামতেন না।

২০১১ থেকে ২০১৮ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ৩৯ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ২০১১-১২ মৌসুমে তিলকরত্নে দিলশানের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ২৬ অক্টোবর, ২০১১ তারিখে দুবাইয়ের ডিএসসিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২০ ও ৮ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, সাঈদ আজমলের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর বদৌলতে পাকিস্তান দল ৯ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের পর দলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। এ পর্যায়ে উইকেট-রক্ষকের শূন্যতা পূরণে তাঁকে দলে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ঐ সুযোগ ধরে রাখতে পারেননি। ক্রিকেট কোচ পিতা তাঁর ক্রিকেট জীবনে বিরাট ভূমিকা রাখেন। কুমার সাঙ্গাকারা’র সাথে যোগাযোগ করে তাঁকে শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে উদীয়মান ক্রীড়াশৈলী বিকাশে প্রভাব ফেলেন। উজ্জ্বীবিত ভঙ্গীমা ও দৃঢ় প্রত্যয়ীভাবের কারণে জানুয়ারি, ২০১৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে দলে রাখা হয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮০ ও ৯৫ রানের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। এরপর, ঢাকায় নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। এরপর থেকেই শীর্ষসারিতে ক্রমাগত সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন।

২০১৪-১৫ মৌসুমে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৩ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৫ ও ৫০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ডগ ব্রেসওয়েলের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। কেন উইলিয়ামসনের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীতে সফরকারীরা ১৯৩ রানে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০১৬ সালে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। পুরো সিরিজে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ৯ জুন, ২০১৬ তারিখে তৃতীয় ইনভেসটেক টেস্টে সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অংশ নেন। ৭৯ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জনি বেয়ারস্টো’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। এছাড়াও, ১৯৩ রান সংগ্রহ করে জনি বেয়ারস্টো’র সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।

এপ্রিল, ২০১৬ সালে অনুশীলনীমূলক খেলায় শর্ট লেগ অঞ্চলে ফিল্ডিংকালে মাথায় চোঁট পান। দ্রুত তাঁকে কলম্বো হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয় ও দুই দিন পর ছাড়পত্র লাভ করেন।

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তারিখে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট খেলার উদ্দেশ্যে মালিন্ডা পুষ্পকুমারা’র সাথে তাঁকে শ্রীলঙ্কা দলে যুক্ত করা হয়। ২০১৮-১৯ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৬ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় দলনেতার অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর বদৌলতে সফরকারীরা ৫৭ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট