| |

ব্যাসিল ডি’অলিভেইরা

৪ অক্টোবর, ১৯৩১ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার সিগন্যাল হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ভারতীয়-পর্তুগীজ বংশোদ্ভূত সম্ভ্রান্ত ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী পরিবারের সন্তান ছিলেন। কিশোর অবস্থায় কেপটাউনভিত্তিক নিউল্যান্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে খেলতেন ও গাছে চড়ে ক্রিকেট খেলা দেখতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় অ-শ্বেতাঙ্গ ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও, অ-শ্বেতাঙ্গ জাতীয় দলের সদস্যরূপে ফুটবল খেলতেন। অ-শেতাঙ্গ হবার সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে খেলার সুযোগ পাননি।

‘ডলি’ কিংবা ‘ব্যাস’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন ব্যাসিল ডি’অলিভেইরা। ১৯৬০-এর দশকে ক্রিকেট খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা ত্যাগ করে ইংল্যান্ডে চলে আসেন। এক পর্যায়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের অধিকারী হন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৪ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন অতিবাহিত করেছেন।

১৯৬৬ থেকে ১৯৭২ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৪৪ টেস্ট ও চারটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২৪৮৪ রানের সন্ধান পেয়েছিলেন। পরিবর্তিত বোলার হিসেবে ও জুটি ভেঙ্গে ফেলতে বেশ ভূমিকা রাখতেন। ৩৯.৫৫ গড়ে ৪৭ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৬৬ সালে নিজ দেশে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৬ জুন, ১৯৬৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৪ ও ১/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পূর্বের টেস্ট জয়ের সুবাদে সফরকারীরা এগিয়ে যায়।

এরপর, ৩০ জুন, ১৯৬৬ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৭৬ ও ৫৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৫১ ও ২/৭৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৩৯ রানে জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৪ আগস্ট, ১৯৬৬ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৮৮ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৫ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে যায়।

এরপর, ১৮ আগস্ট, ১৯৬৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৫ ও ১/৪৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩৪ রানে জয় পেলেও ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৬৭ সালে নিজ দেশে মনসুর আলী খান পতৌদি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৮ জুন, ১৯৬৭ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০৯ ও ২৪* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ১/২৯ ও ০/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৬ উইকেটে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে কলিন কাউড্রে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের অন্যতম সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৮ মার্চ, ১৯৬৮ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২৭ ও ২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৭ ও ০/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৬৮ সালে নিজ দেশে বিল লরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। অ্যাশেজ সিরিজে দারুণ খেলেন। ৬ জুন, ১৯৬৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৯ ও ৮৭* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৮ ও ১/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৫৯ রানে পরাভূত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২২ আগস্ট, ১৯৬৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। ১৫৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ ইনিংসের কল্যাণেই বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে সাড়া জাগান ও স্বীয় সক্ষমতার কথা জানান দেন। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ৯ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩ ও ১/১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ২২৬ রানে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা সিরিজটি ড্র করতে সমর্থ হলেও সফরকারীরা অ্যাশেজ কুক্ষিগত রাখে।

একই বছর দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে শুরুতে দলে না থাকলেও পরবর্তীতে একজন খেলোয়াড় আঘাতের কবলে পড়লে তাঁকে দলে রাখা হয়। কিন্তু, দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার তাঁকে দলে রাখা হলে দক্ষিণ আফ্রিকার না খেলার কথা ঘোষণা করে। এরফলে, এ সফরটি বাতিল হয়ে যায়। এ ঘটনাই পরবর্তীতে ‘ডি’অলিভেইরা ঘটনা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে একঘরে রাখার নীতি অবলম্বনে উদ্বুদ্ধ করে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কনফারেন্স দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অবস্থান নেয় ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ না করার কথা ঘোষণা করে। ফলশ্রুতিতে, কোন দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেয়নি ও ১৯৯১ সালে বর্ণবৈষম্যবাদ বিলোপন হলে দলটি পুণরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে ফিরে আসে।

১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে কলিন কাউড্রে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে পাকিস্তান সফরে যান। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১১৪* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৫ ও ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৬৯ সালে নিজ দেশে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ জুন, ১৯৬৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৫৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১০ জুলাই, ১৯৬৯ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৮ ও ৩৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৭ ও ০/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অ্যালান নটের শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৭০-৭১ মৌসুমে রে ইলিংওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজের সপ্তম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/২৪ ও ২/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ৪৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ৬১ রানে পরাভূত হলে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

একই মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে রে ইলিংওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফর করেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১০০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৭১ সালে নিজ দেশে ইন্তিখাব আলমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৭ জুন, ১৯৭১ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের কোন ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ না পেলেও বল হাতে নিয়ে ১/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৭২ সালে নিজ দেশে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৮ জুন, ১৯৭২ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ২৩ ও ৩৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৩ ও ১/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৮৯ রানে পরাভূত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২২ জুন, ১৯৭২ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৩২ ও ৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রেই বব ম্যাসি’র বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪৮ ও ১/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ খেলায় স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে সিরিজে সমতায় চলে আসে।

এরপর, ১৩ জুলাই, ১৯৭২ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২৯ ও ৫০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪১ ও ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ১০ আগস্ট, ১৯৭২ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪ ও ৪৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, সফরকারীরা ৫ উইকেটে জয় পেলে ২-২ ব্যবধানে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ১৯৮০ সাল থেকে পরবর্তী এক দশক ওরচেস্টারশায়ারের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। একই বছর অর্থাৎ ১৯৮০ সালে স্পোর্টস কাউন্সিল ডেলিগেশনের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনের জন্যে মনোনীত হন। ১৯৬৭ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননা লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে ওবিই ও ২০০৫ সালে সিবিই উপাধীতে ভূষিত হন। তাঁর সম্মানার্থে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টেস্ট সিরিজের নামকরণ ‘ব্যাসিল ডি’অলিভেইরা ট্রফি’ করা হয়। ২০০০-এর দশকের সূচনালগ্নে দক্ষিণ আফ্রিকার ১০জন সেরা ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে মনোনীত হন।

১৯ নভেম্বর, ২০১১ তারিখে ৮০ বছর ৪৬ দিন বয়সে পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। নাওমি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির ড্যামিয়েন নামীয় এক সন্তান ছিল।

সম্পৃক্ত পোস্ট