৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

পিতা-মাতার পাঁচ সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন। সেন্ট ক্যাথরিনের পোর্টসমাউথে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। ১৯৭৯ সালে রেহোবথ বেসিক স্কুলে ভর্তি হন। এরপর, ১৯৮৩ সালে ইন্ডিপেন্ডেন্স সিটি অল এজে পড়াশুনো করেন। পরবর্তীতে, ক্যাম্পারডাউন হাই স্কুল থেকে ১৯৮৮ সালে কমন এন্ট্রান্স একজামিনেশনে অংশ নেন। ক্যাম্পারডাউনে অধ্যয়নকালে অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে ক্রিকেট ও ফুটবল উভয় ক্রীড়ায় অংশ নিয়েছিলেন। জুনিয়র কোল্টস, কোল্টস ও সানলাইট কাপে সকল স্তরের ক্রিকেটে এবং অনূর্ধ্ব-১৪ ও ম্যানিং কাপে ফুটবলে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

মারকুটে ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে প্রাণের সঞ্চার করেন। খুব দ্রুত ওয়েস্ট ইন্ডিজের ‘এ’ দলের সদস্যরূপে যুক্ত হন। ১৯৯৭ সালে দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ এবং ভারত সফর করেন।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০১১ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকা ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আহমেদাবাদ রকেটসের পক্ষে খেলেছেন। একদিনের ও চারদিনের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় দলের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ২০০৮ থেকে ২০০৯ সময়কালে ডার্বিশায়ারের সাথে যুক্ত ছিলেন।

১৯৯৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ৪৫ টেস্ট, ১১৯টি ওডিআই ও পাঁচটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে সিঙ্গাপুরে ভারতের বিপক্ষে তাঁর ওডিআই অভিষেক ঘটে। নিজস্ব তৃতীয় ওডিআইয়ে দুই ডব্লিউ ও সাকলাইন মুশতাকের বল মোকাবেলা করে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬৫ রান তুলেন। এ পর্যায়ে শীর্ষসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন ও ড্রাইভের ফুলঝুড়ি ছোটান।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ম্যাথু সিনক্লেয়ারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১০৫ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ এগিয়ে যায়।

একই মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৬ মার্চ, ২০০০ তারিখে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেন। ক্রিস গেইলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪৬ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, কার্টলি অ্যামব্রোসের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩৫ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০০০ সালে নিজ দেশে মঈন খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৮ মে, ২০০০ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। নিজস্ব চতুর্থ খেলায় পায়ের কারুকাজ ও কৌশল গ্রহণের অভাব নিয়েও ১৬৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫২ রান সংগ্রহসহ খেলায় তিনি দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

একই বছর জিমি অ্যাডামসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৫ জুন, ২০০০ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১২ রান সংগ্রহসহ চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কোর্টনি ওয়ালশের অনবদ্য বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৯৩ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই বছর জিমি অ্যাডামসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। এরপর, ২৯ জুন, ২০০০ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫৯ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ডমিনিক কর্কের অসাধারণ ক্রীড়া সাফল্যে স্বাগতিকরা ২ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণে সক্ষম হয়।

একই সফরের ৩১ আগস্ট, ২০০০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২ ও ৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মাইক অ্যাথার্টনের চমৎকার ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৫৮ রানে পরাভূত হলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

বিস্ময়করভাবে ২০০০-০১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চূড়ান্ত টেস্টে তাঁকে ইনিংস উদ্বোধনের জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ঐ মৌসুমে জিমি অ্যাডামসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্ট খেলেন। এ পর্যায়ে শারউইন ক্যাম্পবেলের সাথে ১৪৭ ও ৯৮ রানের জুটি গড়েছিলেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৭০ ও ৪৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা মাইকেল স্লেটারের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে ৬ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। তবে, এরপর থেকে দলে আসা-যাবার পালায় ছিলেন। এক পর্যায়ে ক্রিস গেইল তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।

২০০১ সালে নিজ দেশে শন পোলকের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৬ এপ্রিল, ২০০১ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, ব্যাট হাতে নিয়ে ৯ ও ২৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অপূর্ব অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ঐ টেস্টে তাঁর দল ৮২ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

২০০১-০২ মৌসুমে কার্ল হুপারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ৩১ জানুয়ারি, ২০০২ তারিখে শারজায় অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/২৬ ও ০/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৫৯ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, শোয়েব আখতারের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ক্যারিবীয় দল ১৭০ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০০৩ সালে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৯ এপ্রিল, ২০০৩ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২০ ও ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। রিকি পন্টিংয়ের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১১৮ রানে পরাজিত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

২০০৪ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা বিজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের মুখোমুখি হন। ৩১ মার্চ, ২০০৫ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডিজিসেল অ্যান্ড কেবল অ্যান্ড ওয়ারলেস সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ২১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলনায়ক শিবনারায়ণ চন্দরপলের অসাধারণ দ্বি-শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০০৫-০৬ মৌসুমে শিবনারায়ণ চন্দরপলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৫ নভেম্বর, ২০০৫ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০ ও ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ব্রায়ান লারা’র অসাধারণ ব্যাটিং সত্ত্বেও সফরকারীরা ৭ উইকেটে পরাভূত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। সব মিলিয়ে টেস্টে পাঁচটি শতক ও ওডিআইয়ে সমসংখ্যক শতরানের সন্ধান পেয়েছেন।

এপ্রিল, ২০১১ সালে পেশাদারী পর্যায়ের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। খুব দ্রুত ওয়েস্ট ইন্ডিজ মনা ক্যাম্পাস বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ২০১১ থেকে ২০১৪ সময়কালে গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিষয়ে কলায় স্নাতক সম্মান ডিগ্রী লাভ করেন। ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন ক্যাম্পাসে সফলতার সাথে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ধাবিত হন। ডব্লিউআইপিএ’র প্রেসিডেন্ট ও সিইও’র দায়িত্ব পালন করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট