১৭ মে, ১৯৩২ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের ক্যাঙ্গারু পয়েন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৫২-৫৩ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৫৫ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৪২ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে নিজ দেশে লিওনার্ড হাটনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বিল ওয়াটসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৭ ও ১৮* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও স্বাগতিকরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৫৬ সালে ইয়ান জনসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১২ জুলাই, ১৯৫৬ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২ ও ৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে জিম লেকারের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। ইনিংস ও ৪২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণে সক্ষম হয়।

১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে ইয়ান জনসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ভারত গমন করেন। ২৬ অক্টোবর, ১৯৫৬ তারিখে বোম্বের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৮৩ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, ২ নভেম্বর, ১৯৫৬ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫৮ ও ২২ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে গুলাম আহমেদের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ৯৪ রানে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ইয়ান ক্রেগের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৭ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ১৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে নিজ দেশে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৫ ডিসেম্বর, ১৯৫৮ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৬০-৬১ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রাঙ্ক ওরেলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৭ জানুয়ারি, ১৯৬১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৫ ও ৪৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৬১ সালে অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে রিচি বেনো’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৮ জুন, ১৯৬১ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ২২ জুন, ১৯৬১ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। মাত্র ৭১ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় ফ্রেড ট্রুম্যানব্রায়ান স্ট্যাদামের তোপে সফরকারীদের সংগ্রহ ১৯/৪ হলে তিনি মাঠে নেমে দলকে খুব সহজে জয় এনে দেন। খেলায় তিনি ৪৬ ও ৩৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ৫ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৭ জুলাই, ১৯৬১ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৫ ও ২৩ রান সংগ্রহ করেন। তবে, খেলায় তাঁর দল ৫৪ রানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, ১৭ আগস্ট, ১৯৬১ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। সিরিজের শেষ টেস্টে দলের একমাত্র ইনিংসে ১৮১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৬২-৬৩ মৌসুমে নিজ দেশে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। এ টেস্টে দারুণ খেলেন। ১০৩ ও অপরাজিত ৫২ রান তুলে উভয় ইনিংসে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়।

১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে নিজ দেশে ট্রেভর গডার্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১ জানুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে মেলবোর্নের এমসিজিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৩ ও ২৬* রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৬৪ সালের অ্যাশেজ সিরিজে অংশ নিতে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২ জুলাই, ১৯৬৪ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। দল ১৭৮/৭ তুলে সঙ্কটে পড়লে তিনি ১৬০ রান করে দলীয় সংগ্রহকে ৩৮৯ রানে নিয়ে যান। উইজডেন পরবর্তীতে টেস্টটিকে ‘বার্জের খেলা’ হিসেবে চিত্রিত করে। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৭ উইকেটে জয় পেয়ে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ২৩ জুলাই, ১৯৬৪ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। দলীয় অধিনায়ক বব সিম্পসনের ৩১১ রানের বদৌলতে সফরকারীরা ৬৫৬/৮ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১৩ আগস্ট, ১৯৬৪ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১৭ অক্টোবর, ১৯৬৪ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ১-১ ব্যবধানে সিরিজটি শেষ হয়।

১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৮ জানুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৯ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়েছিল।

টেস্টগুলোয় ৩৮ গড়ে ২২৯০ রান তুলেছেন। তেমন বড় ধরনের ইনিংস খেলতেন না। ১৬ সিরিজ নিয়ে তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন গড়ে উঠেছিল। চারটি ভিন্ন অ্যাশেজ সিরিজে অংশ নিয়ে ২২ টেস্ট থেকে একটিমাত্র শতরানের সন্ধান পেয়েছিলেন। এছাড়াও, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪৮ গড়ে ১৪৬৪০ রান তুলেছেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর রাজ্য দল নির্বাচক ও কুইন্স ক্রিকেটের সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। এরপর, ১৯৯২ সালে আইসিসি ম্যাচ রেফারি হিসেবে তাঁকে নিযুক্ত করা হয়। পরের বছর প্রথম ম্যাচ রেফারি হিসেবে আম্পায়ারকে হয়রানীর অভিযোগে আকিব জাভেদকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। সর্বমোট ২৫ টেস্ট ও ৬৩টি ওডিআই পরিচালনা করেছেন।

ঘোড়দৌড়ে পারদর্শী ছিলেন। কালেকশন হাউজ প্রাইভেট লিমিটেডের হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। দুই পুত্র সন্তানের জনক। রেফারি হিসেবে খেলা পরিচালনার আট মাস পর ৫ অক্টোবর, ২০০১ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের মেইন বীচ এলাকায় ৬৯ বছর ১৪১ দিন বয়সে হৃদযন্ত্রক্রীয়ায় আক্রান্ত তাঁর দেহাবসান ঘটে। ২০০৯ সালে মরণোত্তর কুইন্স হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট