৯ জুন, ১৯৭৭ তারিখে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
নটিংহ্যামশায়ারের ক্রিকেটার গ্রেগ মাইকের পিতা ক্লিন্টন মাইকের তত্ত্বাবধানে খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেছিলেন। কৈশোরে স্লো লেফট-আর্ম বোলার হিসেবে গড়পড়তা সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৯১ সালে কিছুটা ভালো খেলে নটসের অনূর্ধ্ব-১৪ দলে স্থানলাভে সমর্থ হন। পরবর্তী গ্রীষ্মে অ্যান্ডি অ্যাফোর্ডের কাছ থেকে কিঞ্চিৎ পরামর্শ পেয়ে নটস স্কুলস অনূর্ধ্ব-১৫ দলে চলে যান ও তারপর এস্কা মিডল্যান্ডস দলের সদস্য হন। সেখান থেকে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৫ দলে যুক্ত হন। প্রথম একাদশে থেকে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৫ দলের বিপক্ষে টেস্ট ও ওডিআই সিরিজ খেলেন।
টেক্সাকো কম্পিটিশনে নটস অনূর্ধ্ব-১৬ দলে স্বাভাবিকভাবেই যুক্ত হন। চূড়ান্ত খেলায় অংশ নেয়ার জন্যে আপিংহাম গমন করেন। নটসের পক্ষে ফিরতি তিনটি খেলায় ৭/৬৫, ৫/৩৯ ও ৬/৪১ লাভ করেন। নটস দল রানার্স-আপ হয় ও সবগুলো খেলায় অংশ নিয়ে ১০.১৯ গড়ে ৪৬ উইকেট দখল করেছিলেন। এছাড়াও, প্রায় একাকী অনূর্ধ্ব-১৯ উইল্ফ বার্লো ট্রফি প্রতিযোগিতার শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ৬৫ ওভার বোলিং করে ৯৩ রান খরচায় ১৪ উইকেট পান।
ছয় ফুট উচ্চতার অধিকারী উসমান আফজাল ‘ট্রেভর’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। সচরাচর চার নম্বর অবস্থানে মাঠে নামতেন। উইকেট বিলিয়ে দেবার পর পিছনে ফিরে উইকেটের দিকে তাকাতেন। দ্রুততার সাথে খেলতেন ও ভোগবিলাসে মত্ত থাকতেন। ম্যানভার্স পিয়েরেপয়েন্ট স্কুলে অধ্যয়ন শেষে সাউথ নটস কলেজে পড়াশুনো করেছেন। ১৯৯৫ থেকে ২০১০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ার, নটিংহ্যামশায়ার ও সারে এবং বাংলাদেশী ক্রিকেটে কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কাউন্টি ক্রিকেটে ৪০-এর অল্প কম গড়ে রান সংগ্রহ করেছেন।
২০০১ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ঐ বছর স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজে অংশ নিতে ইংল্যান্ড দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। ৫ জুলাই, ২০০১ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অ্যাডাম গিলক্রিস্টের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১১৮ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১৬ আগস্ট, ২০০১ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪ ও ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। মার্ক বুচারের অসাধারণ শতকের কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ছয় উইকেটে জয়লাভ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
প্রথম দুই টেস্টে তেমন সুবিধের স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। তবে, ওভাল টেস্টে অর্ধ-শতক হাঁকিয়ে ভারত সফরে দলে ঠাঁই করে নেন। ২৩ আগস্ট, ২০০১ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। এ ইনিংস খেলাকালে শূন্যে লাফিয়ে স্বর্ণালী মুহূর্ত উদযাপন করেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫৪ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। শেন ওয়ার্নের স্মরণীয় বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৫ রানে পরাজিত হলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
ভারত সফরে অবশ্য কোন খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি। দ্বাদশ খেলোয়াড়ের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত ছিলেন। ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায় বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত এ খেলোয়াড়কে এক পর্যায়ে পর্দার অন্তরালে চলে যেতে বাধ্য হতে হয়।
