১৪ জুন, ১৯২৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের লিজারো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে কার্যকর ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৪৯-৫০ মৌসুম থেকে ১৯৬২-৬৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৪৯-৫০ মৌসুমে শেফিল্ড শীল্ড ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। পরের মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় একাদশের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমনের জন্যে মনোনীত হন। ওয়াইরারাপা’র বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১০/২৯ লাভ করেন। এরপর, ১৫৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন।
১৯৫৩ থেকে ১৯৬৩ সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৪৪ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৩ সালে লিন্ডসে হ্যাসেটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমনার্থে মনোনীত হন। ১১ জুন, ১৯৫৩ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। জ্যাক হিলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/২২ ও ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ২৫ জুন, ১৯৫৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৭৬ ও ১৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ৯ জুলাই, ১৯৫৩ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫ ও ৪* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে নিজ দেশে লিওনার্ড হাটনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭২ খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও স্বাগতিকরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৫৬ সালে ইয়ান জনসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৭ জুন, ১৯৫৬ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, আঘাতের কারণে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে পারেননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ২৩ আগস্ট, ১৯৫৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৬ ও ১/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে ইয়ান জনসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ভারত গমন করেন। ২৬ অক্টোবর, ১৯৫৬ তারিখে বোম্বের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৪ ও ০/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৫৭ সালে আরও একবার ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলকে পুণরুজ্জীবিত করতে তিনি স্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ইয়ান ক্রেগের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৭ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে বেশ সফল ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে আরএ ম্যাকলিনকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/২২। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/১১৫ ও ৬/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৫৭ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২/৩১ ও ২/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে ২১ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ইনিংস ও ১৪১ রানে জয়লাভ করলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৮ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪/৪৪ ও ৫/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
এ সফরে দলের প্রধান পেস বোলার হিসেবে পরিচিতি ঘটানোর পর মাত্র একটি খেলায় অংশ নিতে পারেননি। বোলিং গড়ে শীর্ষে ছিলেন ও দূর্দান্ত ব্যাটিং করেছিলেন। পাঁচ টেস্ট থেকে ১৭.০০ গড়ে ২৫ উইকেটের সন্ধান পান। এছাড়াও, ৫৪.২০ গড়ে ব্যাট করে তৃতীয় স্থানে ছিলেন।
১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে নিজ দেশে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৫ ডিসেম্বর, ১৯৫৮ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৩৬ ও ২/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৯ জানুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, ১/২১ ও ১/৬৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পূর্বের দুই টেস্টে জয়ের সুবাদে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ৩০ জানুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৪৯ ও ২/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১০ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, ৩/৩৮ ও ২/৯৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৯ উইকেটে পরাজিত হলে সফরকারীরা ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৫৯-৬০ মৌসুমে রিচি বেনো’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ১৯ ডিসেম্বর, ১৯৫৯ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি ৪১ ও ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। উভয় ইনিংসেই তিনি জসুভাই প্যাটেলের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, বল হাতে নিয়ে বিরাট সাফল্য পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা ৭/৯৩ লাভ করেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ৫/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাসত্ত্বেও, স্বাগতিকরা ১১৯ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় আসতে সমর্থ হয়।
১৯৬০-৬১ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রাঙ্ক ওরেলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৯ ডিসেম্বর, ১৯৬০ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম টাই টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৪ ও ৮০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে সপ্তম উইকেটে দলীয় অধিনায়ক রিচি বেনো’র (৫২) সাথে ১৩৪ রানের জুটি গড়েন। এ পর্যায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া দল সপ্তম উইকেটে নতুন রেকর্ড গড়ে। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫/১৩৫ ও ৬/৮৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এরফলে, একশত রান সংগ্রহসহ ১০ উইকেট পেয়েছিলেন। টেস্টের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একই টেস্টে প্রথমবারের মতো এ সাফল্যের অধিকারী হন। খেলাটি টাইয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৬০ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়ে ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৬/৫৩ ও ২/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
অংশগ্রহণকৃত প্রথম ৩২ টেস্ট থেকে অস্ট্রেলিয়া দল ১৬ জয় ও মাত্র চারটি টেস্টে পরাজয়বরণ করেছিল। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম থেকে ১৯৬২-৬৩ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজ পর্যন্ত ৩৩ টেস্টে অংশ নিয়ে রিচি বেনো’র সাথে ৩৩৩ উইকেট শিকারে অংশ নেন। রিচি বেনো’র ১৬৩ উইকেট লাভের সাথে তিনি পেয়েছিলেন ১৭০ উইকেট। স্মর্তব্য যে, তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের প্রথম চার বছরে অস্ট্রেলিয়া দল কোন খেলায় জয় পায়নি ও ১২ টেস্টের মধ্যে সাতটিতেই পরাজিত হয়েছিল। তাঁর অবসর গ্রহণের পর পরবর্তী ৩০ টেস্টের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া দল ছয়টিতে জয়ী হয় ও আটটিতে পরাজয়বরণ করে।
১৯৬১ সালে অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে রিচি বেনো’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৮ জুন, ১৯৬১ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ২২ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৭০ ও ০/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ২২ জুন, ১৯৬১ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ৫/৪২ ও ২/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় তাঁর দল ৫ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৭ জুলাই, ১৯৬১ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৭৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৭০ ও ২/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ খেলায় তাঁর দল ৫৪ রানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ১৭ আগস্ট, ১৯৬১ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৮৩ ও ০/৬৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৬২-৬৩ মৌসুমে নিজ দেশে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১১ জানুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/৫৪ ও ৫/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৮ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় চলে আসে।
একই সফরের ২৫ জানুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৬ ও ২ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে ব্রায়ান স্ট্যাদামের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, বল হাতে নিয়ে ৩/৪৩ ও ৩/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
টেস্টগুলো থেকে ২৪.৫৯ গড়ে ১৩২৮ রান ও ২০.৫৩ গড়ে ১৮৬ উইকেট দখল করেছিলেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি অস্ট্রেলীয় ফুটবল ও রাগবি খেলায় পারদর্শী ছিলেন। ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পরও খেলার সাথে জড়িত ছিলেন। দল নির্বাচক ও প্রশাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।
১৯৬২ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬৪ সালে এমবিই ও ১৯৮৭ এএম উপাধীতে ভূষিত হন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে স্পোর্ট অস্ট্রেলিয়া হল অব ফেমে ঠাঁই পান। ২০১১ সালে আইসিসি ক্রিকেট হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। ‘ফিফটিন পেসেস’ শিরোনামের আত্মজীবনী প্রকাশ করেন। গ্রন্থের ভূমিকায় ডন ব্র্যাডম্যান মন্তব্য করেন যে, ‘সেরা খেলোয়াড়েরা অবদানকারী কিংবা বিনোদনকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তবে, অ্যালান ডেভিডসন উভয়ই।’
৩০ অক্টোবর, ২০২১ তারিখে সিডনিতে ৯২ বছর ১৩৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
