২৭ ডিসেম্বর, ১৯৬৫ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।
১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট ও চারটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান। ৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ধম্মিকা রানাতুঙ্গা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এ পর্যায়ে উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন ও দুই রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অরবিন্দ ডি সিলভা’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
আঘাতের কারণে হোবার্টে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নিতে পারেননি ও হাসান তিলকরত্নেকে এ অবস্থানে দায়িত্ব পালনে আমন্ত্রণ জানানো হলে উৎসাহব্যঞ্জক ভূমিকার স্বাক্ষর রাখেন। এরপর থেকেই তিনি পর্দার অন্তরালে চলে যান ও দল নির্বাচকমণ্ডলী ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি পাওয়া হাসান তিলকরত্নেকে অগ্রাধিকার দেয়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট উপেক্ষিত হলেও খেলার ধারা অব্যাহত রাখতে থাকেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলে ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিজ দেশে মার্টিন ক্রো’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো খেলার জন্যে পুণরায় দলে জায়গা করে নেন। ২৭ নভেম্বর, ১৯৯২ তারিখে মোরাতুয়ায় অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, চারটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, রোশন মহানামা’র অসাধারণ শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, একই সফরের ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। উইকেটের পিছনে থেকে মুত্তিয়া মুরালিধরন, জয়ানন্দ বর্ণবীরা ও ডন অনুরাসিরি’র স্পিন বল অপূর্ব দক্ষতার সাথে সামাল দেন। দুই রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, হাসান তিলকরত্নে’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এরপূর্বে একই সফরের ৪ ডিসেম্বর, ১৯৯২ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।
তাসত্ত্বেও জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলী শ্রেয়তর ব্যাটিং গুণাবলীর অধিকারী খেলোয়াড়দেরকে প্রাধান্য দিতে থাকেন। পরবর্তী কয়েক বছর দলে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে এ অবস্থানে নামানো হলেও তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখেননি। অন্যদিকে, তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে ঠিকই চমৎকার ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে যাচ্ছিলেন।
দল নির্বাচকমণ্ডলীর কাছ থেকে ক্রমাগত উপেক্ষার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। উইকেটের পিছনে দূর্দান্ত ভূমিকা রাখতেন ও নিচেরসারির দৃঢ়প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ব্যাটসম্যান ছিলেন। তবে, জাতীয় দলে কখনো স্বীয় স্থান পাকাপোক্ত করতে পারেননি। বিস্ময়করভাবে নন্দেস্ক্রিপ্টস দলের সতীর্থ হাসান তিলকরত্নেকে শ্রীলঙ্কা দলের উইকেট-রক্ষকের আসনে নিয়ে যাওয়া হয়। অথচ, ক্লাব পর্যায়ের ক্রিকেটে তিনি উইকেট-রক্ষক ও হাসান তিলকরত্নে কেবলমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবেই খেলতেন।
