১৪ আগস্ট, ১৯৭১ তারিখে মাতারা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘বিকি’ ডাকনামে পরিচিতি পেয়েছিলেন। বিশ্বস্ত মিডিয়াম-ফাস্ট বোলার। ব্যাপক অভিজ্ঞতার স্বাক্ষর রেখে সুনিয়ন্ত্রিত পন্থায় বোলিং আক্রমণ পরিচালনা করতেন। পর্যাপ্ত মাত্রায় বলে পেস আনয়ণের অধিকারী। নিখুঁতভাব বজায় রেখে বলকে শূন্যে ঘুরাতেন। মাতারাভিত্তিক রাহুলা কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ২০০১-০২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বার্গার রিক্রিয়েশন ক্লাব, সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাব এবং তামিল ইউনিয়ন ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের মাধ্যমে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত যুব এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়নশীপে খেলেন। এরপর, জাতীয় পর্যায়ে খেলার আওতায় আসেন। ১৯৯১ সালে শ্রীলঙ্কা ‘বি’ দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন।
১৯৯২ সালে ইনিংসের সবকটি উইকেট নিয়ে ঐতিহাসিক অর্জনের সাথে নিজেকে জড়ান ও রেকর্ড গড়েন। কালুতারা ওয়াইসিসি’র বিপক্ষে ঐ ইনিংসে তিনি ১০/৪১ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। ২০০০ সালে কাঁধের আঘাতের কারণে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে ও অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসার্থে গমন করেন। দলে ফিরে আসলেও এরপর থেকে স্থান লাভ করা বেশ দুষ্কর হয়ে পড়ে।
১৯৯০ থেকে ২০০২ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ৪০ টেস্ট ও ১৩৪টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৯০ তারিখে কলকাতায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
১৯৯১-৯২ মৌসুমে অরবিন্দ ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ১২ ডিসেম্বর, ১৯৯১ তারিখে শিয়ালকোটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেলেও ওয়াকার ইউনুসের বলে শূন্য রানে বোল্ড হন। এছাড়াও, ১/১২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সেলিম মালিকের ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ২ জানুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৫/৭৩ ও ১/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ওয়াসিম আকরামের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১১ মার্চ, ১৯৯৫ তারিখে নেপিয়ারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৩/৩৩ ও ০/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৩ ও ১৬ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, চামিণ্ডা ভাসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে নিউজিল্যান্ড দল ঐ টেস্টে ২৪১ রানে পরাজিত হলে সিরিজে পরাজয়বরণ করে। স্মর্তব্য যে, বিদেশের মাটিতে এটিই শ্রীলঙ্কার প্রথম টেস্ট জয় ছিল।
১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৯ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪৩ রান অতিক্রম করেন। এরফলে, ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পূর্বেকার সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ ম্লান হয়ে পড়ে। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম অর্ধ-শতক হাঁকান। ঘটনাবহুল এ টেস্টের তৃতীয় দিন চামিণ্ডা ভাসের সাথে ৮ম উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নতুন রেকর্ড গড়েন। পরবর্তীতে, খেলার পঞ্চম দিন মুত্তিয়া মুরালিধরনের সাথে ৯ম উইকেটে ৪৮ ও রবীন্দ্র পুষ্পকুমারা’র সাথে ১০ম উইকেটে ১৮ রানের জুটি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নতুন রেকর্ড গড়েন। টেস্টের ইতিহাসে শ্রীলঙ্কা দলের উভয় ইনিংসে ৩০৬ রানের ঘটনা ষষ্ঠবারের মতো ঘটে। এছাড়াও, এটিই উভয় ইনিংসে সর্বোচ্চ রান ছিল। খেলায় তিনি ১১ ও ৫১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৭৫ ও ০/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। শন পোলকের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৭০ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে হাসান তিলকরত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান সফরে যান। ৪ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের তৃতীয় খেলায় অংশ নেন। ৬/১০৩ ও ০/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে ওয়াসিম আকরামের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। তবে, ওয়াজাহাতুল্লাহ ওয়াস্তি’র জোড়া শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও শ্রেয়তর রান-রেটে শ্রীলঙ্কান দল চূড়ান্ত খেলায় ভারতের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পায়।
১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে সনথ জয়সুরিয়া’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ১৮ নভেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৬/৬০ ও ০/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ১৩ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। তবে, মারভান আতাপাত্তু’র ব্যাটিং দৃঢ়তা স্বত্ত্বেও স্বাগতিকরা ড্র করতে সক্ষম হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০০০-০১ মৌসুমে সনথ জয়সুরিয়া’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২০ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। ২/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ২১ ও ১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, শন পোলকের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
