১৬ আগস্ট, ১৯৮৩ তারিখে গায়ানার অ্যালবিওন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
কার্যকর ব্যাটসম্যান ও উপযোগী অফ-স্পিনার হিসেবে শুরুতে ব্যাট হাতে বেশ হিমশিম খান। তবে, শিবনারায়ণ চন্দরপলের সাথে জুটি গড়ে বেশ সফল হন। শিবনারায়ণ চন্দরপলকে পছন্দের তালিকায় সর্বাগ্রে রেখেছেন। ব্যাটিং কৌশল অনেকাংশেই তাঁর অনুরূপ ছিল। কভার-পয়েন্ট এলাকায় ফিল্ডিং করতেন। কার্ল হুপারের শূন্যতা পূরণে শুরুরদিকে বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন। তবে, তিনি কেবলমাত্র সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যেই দলে যুক্ত ছিলেন।
২০০২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। পরের বছর সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে শতক হাঁকান। আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ১২ উইকেট দখল করেছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবশ্য তেমন সফলতার সন্ধান পাননি।
১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০১৬-১৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে গায়ানার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স ও জ্যামাইকা তল্লাজের পক্ষে খেলেছেন। ১৭ বছর বয়সে গায়ানার পক্ষে প্রথম খেলতে নামেন। ২০০৫ সালে বিতর্কিতভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়।
২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ১৮ টেস্ট, ৩১টি ওডিআই ও ৮টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। আর্থিক মতবিরোধের জের ধরে দলের সাতজন মূল খেলোয়াড়ের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্বীকৃতিজ্ঞাপনের কারণে তাঁকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়। দূর্ভাগ্যবশতঃ সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে দলে স্থায়ী আসন গাড়তে পারেননি।
২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের মুখোমুখি হন। ৩১ মার্চ, ২০০৫ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডিজিসেল অ্যান্ড কেবল অ্যান্ড ওয়ারলেস সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ডনোভান পাগোনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ১৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫ ও ১/৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলনায়ক শিবনারায়ণ চন্দরপলের অসাধারণ দ্বি-শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। তিন মাস পর ৩১ জুলাই, ২০০৫ তারিখে ডাম্বুলায় ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথম অংশ নেন।
প্রায় দুই বছর দলের বাইরে থাকার পর সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপের উদ্বোধনী আসরে খেলার জন্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি২০ দলের সদস্যরূপে যুক্ত হন। তবে, চূড়ান্ত দলে তাঁকে রাখা হয়নি। তবে, ২০০৮-০৯ মৌসুমে ঘরোয়া চারদিনের প্রতিযোগিতায় ১০৬৮ রান তুলে সর্বাধিক রান সংগ্রাহকে পরিণত হয়েছিলেন। ২০০৯ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে পুণরায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ঠাঁই দেয়া হয়।
২০১০ সালে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১০ জুন, ২০১০ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৯ ও ২৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ডেল স্টেইনের অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা ১৬৩ রানে পরাজয়বরণ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২৬ জুন, ২০১০ তারিখে বার্বাডোসের কেনসিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৬ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। যোহান বোথা’র বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০১২ সালে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৭ জুন, ২০১২ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
একই বছর নিজ দেশে রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হন। ২৫ জুন, ২০১২ তারিখে নর্থ সাউন্ডে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ২৯ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ পূর্বতন রান অতিক্রম করেন। ৫৫ ও ৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। সুনীল নারায়ণের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৯ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের অন্যতম সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৩ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৭৬ ও ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৫ ও ৫২ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। রস টেলরের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২ ও ১৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৯ ও ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। রস টেলরের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২৩ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনায় অংশ নেন।
