|

অস্কার ডা কস্তা

১১ সেপ্টেম্বর, ১৯০৭ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, দূরন্ত ফিল্ডার হিসেবেও তাঁর সুনাম ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯২৮-২৯ মৌসুম থেকে ১৯৩৪-৩৫ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৩০ থেকে ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে মাত্র পাঁচ টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে তুলনামূলক দূর্বল খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া ফ্রেডি ক্যালথর্পের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের বিপক্ষে অংশ নেন। খ্যাতনামা অসীম সময়ের টেস্টে সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। চার্লস পাসাইলাইগু, জর্জ গ্ল্যাডস্টোনইভান ব্যারো’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৩ এপ্রিল, ১৯৩০ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৯ রান তুলেন এবং উভয় ইনিংস থেকে একটি করে উইকেট লাভ করেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়।

১৯৩৩ সালে জ্যাকি গ্র্যান্টের অধিনায়কত্বে ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরের জন্যে মনোনীত হন। এ সফরে সহস্রাধিক রান সংগ্রহের কৃতিত্বের অধিকারী হন। তন্মধ্যে, এসেক্সের বিপক্ষে ব্যক্তিগত একমাত্র শতরানের সন্ধান পান। বল হাতে তেমন সুবিধে করতে পারেননি এবং অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোয়ও ব্যর্থতার পরিচয় দেন।

২৪ জুন, ১৯৩৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬ ও ১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৭ রানে জয়লাভ করে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ২২ জুলাই, ১৯৩৩ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে ২০ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রেই নবি ক্লার্কের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১২ আগস্ট, ১৯৩৩ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৮ ও ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ১৭ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে নিজ দেশে বব ওয়াটের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৩৫ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২৫ ও ১৯* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৩ ও ০/০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ২১৭ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় ফেরে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এ পর্যায়ে বোলিংয়ের তুলনায় ব্যাটিংয়ের দিকেই অধিক মনোযোগী হন।

কৌতুকপ্রিয় ছিলেন। সঙ্গে সর্বদাই রাবার স্ট্যাম্প রাখতেন। অটোগ্রাফের জন্যে সময় বাঁচাতে স্বাক্ষরের পরিবর্তে তা ব্যবহার করতেন। কাউকেই নিরাশ করতেন না।

১ অক্টোবর, ১৯৩৬ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে মাত্র ২৯ বছর ২০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। এরফলে প্রথম ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে মৃত্যুমুখে পতিত হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট