২ মে, ১৯৮২ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

৫ ফুট ১১ ইঞ্চি (১.৮১ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বর্ডার ও ইস্টার্ন প্রভিন্স, ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ার এবং অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আফ্রিকা একাদশ, অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স, সিডনি সিক্সার্স, হোবার্ট হারিকেন্স, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, রাজস্থান রয়্যালস, কলকাতা নাইট রাইডার্স, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো রেড স্টিল এবং ওয়ারিয়র্সের পক্ষে খেলেছেন। তন্মধ্যে, বিবিএলে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ১০৯ রানের একমাত্র শতরানের সন্ধান পান।

২০০৫ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্ট, ৭৮টি ওডিআই ও ৪০টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। তন্মধ্যে, টি২০আই দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০০৫-০৬ মৌসুমে দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১৬ নভেম্বর, ২০০৫ তারিখে হায়দ্রাবাদের ডেকানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

একই মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২ জানুয়ারি, ২০০৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/২৬ ও ১/৭৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের জোড়া শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। একই সফরের ৯ জানুয়ারি, ২০০৬ তারিখে ব্রিসবেনে প্রথমবারের মতো টি২০আইয়ে অংশ নেন।

তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের পর থেকে তাঁর বোলিংয়ে কিছু ত্রুটি ধরা পড়ে। ২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো নিষিদ্ধতার কবলে পড়েন ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। নভেম্বর, ২০০৬ সালে তাঁকে পুণরায় বোলিং করার অনুমতি দেয়া হয়। এখানেই শেষ নয়। ২০০৯ সালে নেতিবাচক প্রতিবেদন আসে। দুসরা বোলিং না করার কথা জানানো হয়। এরপর থেকে সাধারণমানের অফ-ব্রেক বোলিং করতে থাকেন।

২০১০-১১ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে যান। ২০ নভেম্বর, ২০১০ তারিখে আবুধাবিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৫৪ ও ১/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১২ ও ৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, এবি ডি ভিলিয়ার্সের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

২০১২ সালের বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এ প্রতিযোগিতার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। বোর্ডকে চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার অনুরোধ জানান। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। এরপর থেকে দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৭ সালে বেসবলের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ওয়েস্ট টরেন্স বেসবল ক্লাবের সাথে খেলতে শুরু করেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ২০২১ সালে পাকিস্তান সুপার লীগে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের কোচের দায়িত্বে ছিলেন। টুইটারে বেশ সরব রয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। মনিকা বোথা নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট