২৬ মে, ১৯৮৮ তারিখে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর অ্যারিমা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে থাকেন। কার্যকর ডানহাতি অফ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করেন। ২০১০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৮০ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। শদীদ নারায়ণ ও ক্রিস্টিনা নারায়ণ দম্পতির সন্তান ছিলেন। রহস্যময় স্পিনার হিসেবে সুখ্যাতি কুড়িয়েছেন। এক পর্যায়ে টি২০আইয়ে বিশ্বের এক নম্বর বোলারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ২০১৬ সালে তাঁকে বিশ্ব টি২০ দলে রাখা হয়। কিন্তু, নিজের বিশ্রামের কথা তুলে ধরে প্রতিযোগিতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। আইপিএল আসর শুরু হবার দুই দিন পূর্বে এপ্রিলে আইসিসি থেকে তাঁর বোলিং ভঙ্গীমার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

২০০৯ থেকে ২০১৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ভূমিকা রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বরিশাল বার্নার্স, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, ঢাকা ডায়নামাইটস, ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স, গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স, কলকাতা নাইট রাইডার্স, লাহোর কালান্দার্স, কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স, সিডনি সিক্সার্স, মেলবোর্ন রেনেগাডেস, মন্ট্রিল টাইগার্স ও কেপ কোবরাসের পক্ষে খেলেছেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ তারিখে সেন্ট অগাস্টিনে অনুষ্ঠিত রিজিওনাল ফোর ডে কম্পিটিশনে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো বনাম লিওয়ার্ড আইল্যান্ডসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। তেরো ওভার বোলিং করেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি।

২০ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে ক্যারিবিয়ান টি২০ প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো টি২০ খেলায় অংশ নেন। ত্রিনিদাদ ও টোবাগো দল বোলিং করার পূর্বেই বৃষ্টির কারণে খেলাটি পরিত্যক্ত ঘোষিত হলে তিনি বোলিং করার সুযোগ পাননি। ঐ বছরের শেষদিকে ২০ অক্টোবর, ২০১১ তারিখে রিজিওনাল সুপার৫০ প্রতিযোগিতায় লিস্ট-এ ক্রিকেটে প্রথম খেলেন। ৩৫ রান খরচায় উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মাইলস ব্যাসকম্বের উইকেট পেয়েছিলেন।

২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট, ৬৫টি ওডিআই ও ৫১টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ৫ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে আহমেদাবাদে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। সিরিজের তৃতীয় খেলাটিতে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে দলের ১৬ রানের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।

২০১২ সালে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৭ জুন, ২০১২ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। আসাদ ফুদাদিনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। আঘাতপ্রাপ্ত কেমার রোচের পরিবর্তে তিনি খেলার সুযোগ পান। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০১২ সালে নিজ দেশে রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হন। ২৫ জুন, ২০১২ তারিখে নর্থ সাউন্ডে সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন ও কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ড্যানিয়েল ফ্লিনকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বতন সেরা ছিল ০/৭০। এ পর্যায়ে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান। খেলায় তিনি ৫/১৩২ ও ৩/৯১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৯ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৩-১৪ মৌসুমে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, বল হাতে নিয়ে ৬/৯১ ও ০/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। রস টেলরের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০১৪ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ চলাকালে তাঁর বোলিং ভঙ্গীমায় নেতিবাচক প্রতিবেদন আসে। এরফলে, ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা থেকে স্বীয় নাম প্রত্যাহার করে নেন। এ পর্যায়ে মন্তব্য করেন যে, বোলিং ভঙ্গীমা নিয়ে তিনি কাজ করতে চান। এক বছরের অধিক সময় আন্তর্জাতিক খেলা থেকে বিরত থাকার পর নভেম্বর, ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ফিরে আসেন। কিন্তু ছন্দপতন ও ক্রমাগত বোলিং ভঙ্গীমা পরিবর্তনের ফলে আর দলে ফিরে আসতে পারেননি। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে মন্তব্য করেন যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ফিরতে তিনি প্রস্তুত নন।

২০১২ সালে আইসিসির বর্ষসেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। নন্দিতা কুমার নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট