২৯ জানুয়ারি, ১৯৩২ তারিখে লন্ডনের স্ট্রিদাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
পিতা ভারতীয় ছিলেন ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পূর্বে আয়ারল্যান্ডে চলে যান। মাতা ইংরেজ ছিলেন। পরিবারটি ক্রিকেটপ্রেমী ছিল। স্ট্যানলি নামীয় নয় বছরের বড় এক মামার সাথে একত্রে বাগানে খেলতেন। ক্রয়ডনের প্রিপারেটরি স্কুলে ১২ বছর বয়স পর্যন্ত পড়াশুনো করেন। সেখানে নিজেকে কার্যকর বামহাতি ব্যাটসম্যান ও ডানহাতি স্লো-বোলার হিসেবে গড়ে তুলেন। শেষ বর্ষে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী রমন সুব্বা রাও ক্রয়ডনভিত্তিক হুইটগিফ্ট স্কুলে অধ্যয়ন শেষে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশুনো করেছেন। ১৯৪৭ সালে হুইটগিফ্টের প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পানে। সেখানে চার বছর খেলেন। আবারও নিজের প্রভাব প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ১৯৫০ সালে দলের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। উপর্যুপরী তিন বছর ব্যাটিং গড়ে শীর্ষে ছিলেন। এছাড়াও, তাঁর স্লো-বোলিং উত্তরোত্তর বিরাট প্রভাব ফেলেছিল।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ার ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৫১ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। নর্দাম্পটনশায়ারের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সময়ের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে বলকে সঠিক জায়গায় ফেলতে তৎপর হতেন।
১৯৫৮ থেকে ১৯৬১ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে তেরোটি টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৮ সালে নিজ দেশে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জুলাই, ১৯৫৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। টেড ডেক্সটার ও রে ইলিংওয়ার্থের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইনিংস ও ১৩ রানে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৫৮ সালে সফলতম মৌসুম শেষে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে দলে রাখা হয়। তবে, প্রথম টেস্ট শুরুর পূর্বে ডানহাতে বৃদ্ধাঙ্গুলের হাড় ভেঙ্গে যায়। এরফলে, ঐ সফরে খুব কমই খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। সুস্থ হয়ে উঠার পর ১৯৫৯ সালে পুণরায় নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। ছয় শতক সহযোগে ১৯১৭ রান তুলেছিলেন। এরফলে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলার জন্যে তিনি নিজেকে উপযোগী করে তুলেন। ৫৪ গড়ে রান তুলেন। তবে, ঐ সফরের শেষদিকে পুণরায় আঙ্গুলে আঘাত পান। অস্ট্রেলীয়দের সমস্যার পুণরাবৃত্তিকালে মৌসুমের শেষদিকে আরও একবার আঘাতের কবলে পড়েন। বৃদ্ধাঙ্গুল ভেঙ্গে যায়। তাসত্ত্বেও, ১৫০৩ রান তুলেন। ৫৫.৬৬ গড়ে রান তুলে প্রথম-শ্রেণীর রান গড়ে শীর্ষে ছিলেন।
১৯৬০ সালে নিজ দেশে জ্যাকি ম্যাকগ্লিউ’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২১ জুলাই, ১৯৬০ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ১১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৬১ সালে নিজ দেশে রিচি বেনো’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৮ জুন, ১৯৬১ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৯ ও ১১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ২২ জুন, ১৯৬১ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৮ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ৫ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২৭ জুলাই, ১৯৬১ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ৪৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ঐ খেলায় স্বাগতিকরা ৫৪ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ১৭ আগস্ট, ১৯৬১ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১২ ও ১৩৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৬১ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। টিসিসিবি’র চেয়ারম্যান ছিলেন। এরপর, রেফারির দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হন। ৪১ টেস্ট, ১১৯টি ওডিআই ও একটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৭ এপ্রিল, ২০২৪ তারিখে ৯২ বছর ৭৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
