|

ভ্যালেন্স জাপ

২৭ মার্চ, ১৮৯১ তারিখে সাসেক্সের বার্জেস হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ইংল্যান্ডের ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অল-রাউন্ডার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। ১৯০৯ থেকে ১৯৩৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ার ও সাসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনে শুরুতে পেশাদারী পর্যায়ে খেললেও পরবর্তীতে শৌখিন খেলোয়াড়ে রূপান্তরিত হন। উভয় কাউন্টিতেই তিনি এ পরিবর্তনে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন।

নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণে চমৎকার রক্ষণব্যূহ রচনা করে ও অপরিসীম ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। প্রয়োজনে পরিস্থিতি অনুযায়ী এর ব্যতিক্রম ঘটাতেন। আকস্মিক ড্রাইভে প্রায়শঃই বামদিকে অবস্থানকারী ফিল্ডারদেরকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখতেন। তাছাড়াও, অন্যান্য স্ট্রোক খেলায়ও পারঙ্গমতা প্রকাশ করতেন। তাঁর পদসঞ্চালনও অনুপযোগী পিচে বেশ প্রভাব ফেলতো।

নিজের সময়কালে অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে চিত্রিত হয়েছিলেন। শুরুতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটান। ত্রিশের বয়সে এসে অফ-স্পিনের ঝুঁকে পড়েন ও বলকে বড় ধরনের বাঁক খাওয়াতে সক্ষমতা দেখাতেন। এছাড়াও, পেস পরিবর্তন ও বাঁকে নিয়ন্ত্রণ এনে ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্তিতে ফেলতেন। সর্বোপরী তিনি নিজেকে প্রতীকি চিত্রে পরিণত করেছিলেন। দলের বিপর্যয় রোধে দলীয় সঙ্গীরা তাঁর উপর নির্ভরশীল ছিলেন। তাঁর উপস্থিতি সমর্থকদের উজ্জ্বীবিত করতো। তাঁরা জানতো যে, সকল আশার প্রদীপ নিভে গেলেও তিনি রয়েছেন।

১৯২১ থেকে ১৯২৮ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২১ সালে নিজ দেশে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৮ মে, ১৯২১ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ডোনাল্ড নাইট, আর্নেস্ট টিল্ডসলে, পার্সি হোমসটিচ রিচমন্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৮ ও ১৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৪ ও ০/১৩ লাভ করেন। ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯২২-২৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ফ্রাঙ্ক মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯২২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৮ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ১ ও ৩৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জিমি ব্লাঙ্কেনবার্গের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ইপি নুপেনকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/৪৫। বল হাতে নিয়ে ৪/৫৯ ও ৩/৮৭ লাভ করেন। সফরকারীরা ১৬৮ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ১ জানুয়ারি, ১৯২৩ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১২ ও ৩৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১৮ ও ০/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা নাটকীয়ভাবে ১ উইকেটে জয় পেলে সিরিজে সমতা বিরাজ করে।

একই সফরের ১৮ জানুয়ারি, ১৯২৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৭০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।

১৯২৮ সালে নিজ দেশে টেডি হোডের নেতৃত্বাধীন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ২১ জুলাই, ১৯২৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত ক্যারিবীয় দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ১২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ৩০ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ১৭.৩৩ গড়ে ২০৮ রান ও ২২ গড়ে ২৮ উইকেট দখল করেছিলেন। ২০ উইকেটের মানদণ্ডে ১৯২০-এর দশকে তাঁর বোলিং গড় চতুর্থ স্থানে অবস্থান করে। ১৯২৭ সালে নর্দাম্পটনশায়ারের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। শুরুটাও বেশ দূর্দান্তভাবে সূচনা করেন। ৩৯.৪১ গড়ে ১৫৩৭ রান ও ২০.৪২ গড়ে ১২১ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯২৮ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ৯ জুলাই, ১৯৬০ তারিখে নর্দাম্পটনশায়ারের স্প্রাটন এলাকায় নিজ গৃহের নিকটবর্তী বাগানে ভূপতিত হন ও ৬৯ বছর ১০৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। উইজডেনে তাঁকে ‘কভার অঞ্চলে অবস্থানকারী প্রথম-শ্রেণীর ফিল্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করে।

সম্পৃক্ত পোস্ট