|

ক্রেগ সার্জেন্ট

১ নভেম্বর, ১৯৫১ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার নেডল্যান্ডস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী। শক্ত মজবুত গড়ন নিয়ে লেগ-সাইডে খেলতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিগণিত হন। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম থেকে ১৯৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেকের নয় মাসেরও কম সময়ে তাঁকে জাতীয় দলে খেলার জন্যে মনোনীত করা হয়। প্রথম মৌসুমেই ৬৬.৩৬ গড়ে ৭৩০ রান তুলেন। টেস্টে অংশগ্রহণের পূর্বেকার পাঁচ খেলার চারটিতে অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন।

১৯৭৭ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১২ টেস্ট ও তিনটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৭ সালে গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২ জুন, ১৯৭৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। একই সফরের ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। লেন পাস্কো ও রিচি রবিনসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৮১ রানের ইনিংস খেলেন। তবে, পরবর্তী ১৭ ইনিংস থেকে মাত্র একবার অর্ধ-শতরানের কোটা স্পর্শ করতে পেরেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বব উলমারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ৭ জুলাই, ১৯৭৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২৫ আগস্ট, ১৯৭৭ তারিখে লন্ডনের কেনসিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শুরুর পূর্বে এটি সর্বশেষ টেস্ট ছিল। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে বব উইলিসের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে নিজ দেশে বিষেন বেদী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১৬ রানের ব্যবধানে নাটকীয় জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ১২ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে মদন লালের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। ২ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই মৌসুমে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৭ মার্চ, ১৯৭৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ২ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, ৩১ মার্চ, ১৯৭৮ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ঐ টেস্টে তিনি ১২৪ রান তুলেন। গ্রায়েম উডের (১২৬) সাথে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ২৩১ রান তুলে দলকে তিন উইকেটে জয় এনে দেন। তাসত্ত্বেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। তবে, প্রথম ইনিংসে সিলভেস্টার ক্লার্কের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিলেও খেলায় একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

পরবর্তী দুই টেস্টেও খাঁটিমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। দৃশ্যতঃ দলে স্বীয় অবস্থান পাকাপোক্ত করে ফেলেছিলেন। এক পর্যায়ে দলের সহঃঅধিনায়কেরও মর্যাদা পেয়েছিলেন। কিন্তু, পরবর্তী গ্রীষ্মে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় না রাখার খেসারত গুণতে হয়। আর তাঁকে দলে ঠাঁই দেয়া হয়নি।

একই সফরের ২৮ এপ্রিল, ১৯৭৮ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২৬ ও ৩২* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

সম্পৃক্ত পোস্ট