১৪ মে, ১৯৪৮ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, রেফারি ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘ওলি’ ডাকনামে ভূষিত বব উলমার ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। কানপুরের গ্রীন পার্ক ক্রিকেট মাঠ বরাবর হাসপাতালে তাঁর জন্ম। ক্রিকেটপ্রেমী পিতা ক্ল্যারেন্স উলমার সরকারী চাকুরীজীবী ও একবার ভারতের ঘরোয়া চ্যাম্পিয়নশীপে ইউনাইটেড প্রভিন্স দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে সাত বছর বয়সে পরিবারের সাথে ইংল্যান্ডে চলে আসেন ও কেন্টে বসবাস করতে থাকেন। টনব্রিজের ইয়ার্ডলি কোর্ট প্রিপার্যাটরি স্কুলে ভর্তি হন। এ পর্যায়ে পিতার কাছ থেকে ক্রিকেটের মৌলিক জ্ঞান ও প্রতিরক্ষার বিষয়টি আত্মস্থ করেন। শুরুতে স্লো অফ-ব্রেক বোলিং করলেও টেলিভিশনের পর্দায় ফ্রেড ট্রুম্যান ও ব্রায়ান স্ট্যাদামের অনুসরণে গতি বৃদ্ধি করেন। প্রধানশিক্ষকের পরামর্শক্রমে ইয়ার্ডলি কোর্টের শেষ তিন বছরে বোলিংয়ের ধরন পাল্টে ফাস্ট-মিডিয়ামে নিয়ে যান।
টানব্রিজ ওয়েলসভিত্তিক স্কিনার্স স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। বিদ্যালয় জীবনে প্রতিভাবান অল-রাউন্ডার হিসেবে বিবেচিত হতে থাকেন। ২০ বছর বয়সে কেন্টের কর্মী হিসেবে যোগ দেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটাল ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৮ থেকে ১৯৮৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন।
১৯৭২ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৯ টেস্ট ও ছয়টিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালে নিজ দেশে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৩১ জুলাই, ১৯৭৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ডেভিড স্টিলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩৩ ও ৩১ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে অ্যাশলে মলেটের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩১ ও ০/৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৭৭ সালে নিজ দেশে গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৫ আগস্ট, ১৯৭৭ তারিখে লন্ডনের কেনসিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শুরুর পূর্বে এটি সর্বশেষ টেস্ট ছিল। খেলায় তিনি ১৫ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
ঐ বছর নিজের স্বর্ণালী সময়ে অবস্থান করছিলেন। এ পর্যায়ে ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় ছয়জন ইংরেজ খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। এর খেসারতস্বরূপ অন্যান্যদের সাথে তিনিও টেস্ট এন্ড কাউন্টি ক্রিকেট বোর্ড থেকে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। ১৯৮০ সালে হাইকোর্ট থেকে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পূর্ব পর্যন্ত ইংল্যান্ড দলে খেলতে পারেননি।
১৯৮১ সালে নিজ দেশে কিম হিউজের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২ জুলাই, ১৯৮১ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২১ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর টেস্টে সর্বশেষ অংশগ্রহণ ছিল।
লিস্ট-এ ক্রিকেটের একটি খেলায় রেফারির দায়িত্বে ছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ঝুঁকে পড়েন। বিশ্বব্যাপী তিনি বেশ উচ্চমার্গীয় কোচের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। এ পর্যায়ে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তান দলকে পরিচালনা করেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে প্রশিক্ষণের জন্যে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১৮ মার্চ, ২০০৭ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ৫৮ বছর ৩০৮ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন জিল নাম্নী পত্নী এবং পুত্রদ্বয় – রাসেল ও ডেলকে রেখে যান।
