|

মোহাম্মদ মিঠুন

২ মার্চ, ১৯৯১ তারিখে কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি শীর্ষসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করেন। প্রায়শঃই ইনিংস উদ্বোধনে নেমে থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ২০০৬-০৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে খুলনা বিভাগ, দক্ষিণাঞ্চল ও সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম, কলাবাগান ক্রীড়া চক্র, খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলস ও সিলেট থান্ডারের পক্ষে খেলেছেন।

২০০৮ সালে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের সদস্যরূপে ঠাঁই পান। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০০৮ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেটে নিয়মিতভাবে খেললেও ২১ নভেম্বর, ২০০৬ তারিখে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত সিলেট বিভাগ বনাম রাজশাহী বিভাগের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। পঞ্চদশ জন্মদিনের বাঁধা ডিঙিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপি থেকে আগত অন্যতম সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছেন। শিক্ষাজীবন শেষ করার পূর্বেই ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। পরবর্তীতে এ ধারা অব্যাহত রাখলেও ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রেই অধিক সফলতা পেয়েছেন। শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনে অভ্যস্ত। ব্যাটসম্যান হিসেবে দীর্ঘ ইনিংস খেলার দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটাতেন। সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে শীর্ষসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন।

অনেকগুলো বছর ঘরোয়া পর্যায়ে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে আশানুরূপ খেলা উপহার দিতে পারেননি। উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে খেলার সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেন। দলে মূলতঃ ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞ হিসেবে ঠাঁই পেয়েছেন, কেননা, মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের ন্যায় মানসম্পন্ন ব্যাটসম্যান উইকেট-রক্ষণেও সবিশেষ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। চাপ কমাতে তরুণ লিটন দাসের উপর মুশফিকুর রহিম উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া হয়। তবে, স্বীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন। শুধুমাত্র বাংলাদেশের ঘরোয়া পর্যায়ে নয়; বরঞ্চ জাতীয় দলের বিভিন্ন বিদেশী কোচেরও মন জয় করেছেন।

২০০৮-০৯ মৌসুমে সীমিত-ওভারের খেলায় চমৎকার সাফল্য লাভ করেছেন। ঐ মৌসুমের ঘরোয়া ক্রিকেটে দলের শীর্ষ রান সংগ্রাহকে পরিণত হয়েছিলেন। ১০৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করে ২৮৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এরপর, ২০০৯ সালে বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় খেলার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ দলে অন্তর্ভুক্ত হন। তবে, ঐ প্রতিযোগিতার কোন খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি।

পরবর্তী স্তরের ক্রিকেটে অংশ নেয়ার জন্যে তিন বছর অপেক্ষা করতে হয়। ২০১১ সালে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সদস্যরূপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমনের সুযোগ পান। ঐ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তিনটি শতরান সহযোগে ৫০.৮১ গড়ে রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২০১৩-১৪ মৌসুমে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। নয় খেলায় অংশ নিয়ে ৭০৬ রান তুলেন।

২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। বেশ কয়েকবার ১৫-সদস্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। তবে, ঘরোয়া ক্রিকেটে সাফল্য লাভের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালের শুরুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের জন্যে আকস্মিকভাবে আমন্ত্রিত হন। নিয়মিত উইকেট-রক্ষক ও দলীয় অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের আঙ্গুলের আঘাতজনিত মাঠের বাইরে অবস্থানের কারণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় তেমন সফলতা পাননি। এরপর, জুনে ভারতের বিপক্ষে তিনটি ওডিআই নিয়ে গড়া সিরিজে অংশ নেন। ১৭ জুন, ২০১৪ তারিখে ঢাকায় সফরকারী ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৬ রান তুলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে দূর্দান্ত খেলে দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজরে ছিলেন। পরের কয়েক বছর উপেক্ষিত থাকলেও ক্রমাগত ঘরোয়া ক্রিকেটে সাফল্য পেতে থাকলে অবশেষে ২০১৮ সালে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় ওডিআই সিরিজে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

অক্টোবর, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের টেস্ট দলে তাঁকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ২০১৮-১৯ মৌসুমে নিজ দেশে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা’র নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ে দলের মুখোমুখি হন। ১১ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে ঢাকায় সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে খালেদ আহমদের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এ পর্যায়ে তিনি ৮৮টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেয়ার পর টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। বাংলাদেশ দল ২১৮ রানে জয়লাভ করে ও সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সিরিজে সমতা আনে। ঐ টেস্টে তিনি ০ ও ৬৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

চিত্তাকর্ষক ব্যাটিং করে থাকেন। উইকেট-রক্ষণে অবস্থান করলেও ব্যাটিংয়ে সাফল্যের কারণে দল নির্বাচকমণ্ডলী কেবলমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবেই চিত্রিত করে থাকেন। দলের ভিত্তি আনয়ণ ও রানের চাকা সচল করতে সেঁতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে থাকেন। সাকিব আল হাসানমাহমুদুল্লাহ’র মাঝামাঝি পর্যায়ে ব্যাটিংয়ে নামতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। দলে সর্বদাই আসা-যাবার পালায় অবস্থান করছেন। সুযোগ খুব কম পেলেও প্রত্যেকটিতেই নিজেকে মেলে ধরতে আপ্রাণ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলের তৃতীয় উইকেট-রক্ষক হিসেবে ছিলেন।

২০২০-২১ মৌসুমে নিজ দেশে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে মিরপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ১৭ রানের জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। খেলায় তিনি ১৫ ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট