|

হাসান মাহমুদ

১২ অক্টোবর, ১৯৯৯ তারিখে লক্ষ্মীপুরে জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। বাংলাদেশ দলের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন।

২০১৭-১৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে পূর্বাঞ্চল, চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ এমার্জিং টিম, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭, ঢাকা প্লাটুন, জেমকন খুলনা ও রংপুর রাইডার্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে বগুড়ায় রাজশাহীর বিপক্ষে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয়। কয়েক দশক স্পিন নির্ভর বোলিংয়ে বাংলাদেশ দলে উদীয়মান ফাস্ট বোলারদের আশার আলো ছড়ানোদের অন্যতম হিসেবে তিনি চিহ্নিত হয়ে আছেন। শুরুতে মার্চ, ২০২০ সালে বাংলাদেশের সদস্যরূপে প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। এরপর, জানুয়ারি, ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো ওডিআই দলের সদস্যরূপে আমন্ত্রিত হন। তবে, এর পূর্বেই বাংলাদেশের কোচদের কাছে বোলিংয়ে দ্রুততা, নিখুঁততার বিষয়ে স্বীয় যোগ্যতা তুলে ধরেছিলেন।

এছাড়াও, পেস বোলারদের মধ্যে তিনি অন্যতম হিসেবে সীমানা বরাবর ফিল্ডিংয়ে পারঙ্গমতা প্রদর্শন করেছেন। খুব বেশী লম্বা না হলেও বলে পর্যাপ্ত পেস আনয়ণে ব্যাটকে পরাস্ত করতে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। নভেম্বর, ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু টি২০ কাপে আট উইকেট নিয়ে জেমকন খুলনার শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ফলশ্রুতিতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআই খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

মূখ্যতঃ বিসিবি’র বয়সভিত্তিক পরিকল্পনায় তাঁর আবির্ভাব ঘটে। ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম অনূর্ধ্ব-১৬ দলের পক্ষে খেলেন। তিন বছর পর ২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় নয় উইকেট দখল করেন। পরবর্তীতে, লিস্ট-এ ক্রিকেটে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে ১২ উইকেট পান ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলে খেলার সুযোগ পান। ২০১৯-২০ মৌসুমের বিপিএল ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ প্রতিযোগিতার উভয়টিতে দশ উইকেট লাভ করেন।

২০১৯-২০ মৌসুম থেকে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০২৩-২৪ মৌসুমে নিজ দেশে ধনঞ্জয় ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হন। ৩০ মার্চ, ২০২৪ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কা দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাট হাতে ২* ও ৬ রান সংগ্রহ করেন। বল হাতে নিয়ে ২/৯২ ও ৪/৬৫ লাভ করলেও তাঁর দল ১৯২ রানে পরাজিত হয়েছিল। পাশাপাশি, ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে সফরকারী দল।

এর পূর্বে ১৮ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে হাসান মুরাদ ও শাহাদাত হোসেন দীপু’র সাথে তাঁকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলার জন্যে মনোনীত হয়েছিলেন।

২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে এইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৯ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৩ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৩ ও ৩৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৮৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। টনি ডি জর্জি’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২৭৩ রানে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে বিজয়ী হয়।

একই মৌসুমে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২২ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে নর্থ সাউন্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫ ও ৬ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৮৭ ও ০/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। জাস্টিন গ্রিভসের অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা ২০১ রানে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/১৯ ও ২/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৫* ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, তাইজুল ইসলামের দূর্দান্ত বোলিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ১০১ রানে জয় পেয়ে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষম হয়।

২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর নাজমুল হোসেন শান্ত’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ১৭ জুন, ২০২৫ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩/৬৬ ও ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, উভয় ইনিংসে ৪* রান করে সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়কের জোড়া শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০২৬ সালে নাজমুল হোসেন শান্ত’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৩ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে ডারউইনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দলের অন্যান্যদের ন্যায় তিনিও অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপনায় সচেষ্ট ছিলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৬/৫৫ ও ৩/৫৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এরফলে, সফরকারীরা ৯ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায় ও সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দেয়। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট