|

জয়ন্ত সিলভা

২  জুন, ১৯৭৩ তারিখে কালুতারায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব, কালুতারা ফিজিক্যাল কালচার ক্লাব ও সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কা দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত খেলায় স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১/১২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

২৬ মার্চ, ১৯৯৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।

তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। প্রথম অংশ জিম্বাবুয়ে দলের প্রধান শিকারী ছিলেন। তিন টেস্ট থেকে ১০.১২ গড়ে ১৬ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে কলম্বোয় দুইবার দলের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। বাদ-বাকী চার টেস্ট ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেন। এ পর্যায়ে ১২১.২৫ গড়ে মাত্র চার উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নিজ দেশে রমিজ রাজা’র নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৬ এপ্রিল, ১৯৯৭ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে শূন্য রানে রান-আউটে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, বল হাতে নিয়ে ১/৯১ ও ২/৭১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। অরবিন্দ ডি সিলভা’র হার না মানা জোড়া শতকে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের মুখোমুখি হন। ৭ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৩/২৭ ও ০/৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মুত্তিয়া মুরালিধরনের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে বেশ সফল ছিলেন। এ স্তরের ক্রিকেটেই অধিক সফলতা পান। ২৮ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট