২৪ নভেম্বর, ১৯৩২ তারিখে লন্ডনের কেন্টিশ টাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে খেলতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী উপস্থাপন করেছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্স ও সারে এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ক্লিমেন্ট এটলি ক্ষমতায় থাকাকালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেন ও মার্গারেট থ্যাচারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে শেষ করেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে আরও সাতজন প্রধানমন্ত্রীর শাসনকাল উপভোগ করেন। ১৯৪৯ থেকে ১৯৮২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে ডব্লিউজি গ্রেস, উইলফ্রেড রোডস ও জর্জ হার্স্টের পর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৫০০ উইকেট ও ২০০০০ রান তুলেছেন।
১৯৬০-এর দশকে ইংল্যান্ডের মূল অফ-স্পিনার হিসেবে খেলতেন। অনেকাংশে দলের প্রয়োজনে ইনিংস উদ্বোধনেও নামতেন তিনি। ১৯৫৫ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৫৩টি টেস্ট ও দুইটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫৫ সালে নিজ দেশে জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের মুখোমুখি হন। ২৩ জুন, ১৯৫৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৪ ও ১৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ৭১ রানে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ৭ জুলাই, ১৯৫৫ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ১৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয়লাভ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৬২-৬৩ মৌসুমে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১১ জানুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩২ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৭/৯৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৮ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় চলে আসে।
এরপর, ২৫ জানুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৯* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৮৮ ও ০/৬৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১০ জানুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/১১৬ ও ৪/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪ ও ১০ রান করে উভয় ইনিংসে কৃপাল সিংয়ের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ২১ জানুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে ব্রাবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৮৪* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৫৬ ও ৩/৭৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৬৪ সালে নিজ দেশে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২ জুলাই, ১৯৬৪ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৬৯ ও ২/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৭ উইকেটে জয় পেয়ে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২৩ জুলাই, ১৯৬৪ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১০০ ও ০/০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক বব সিম্পসনের ৩১১ রানের বদৌলতে সফরকারীরা ৬৫৬/৮ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ১৩ আগস্ট, ১৯৬৪ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। খেলায় তিনি ৮ ও ৫৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলের খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ৪ ডিসেম্বর, ১৯৬৪ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ পাননি। তবে, বল হাতে নিয়ে ১/২০ ও ৫/৬৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ১০৪ রানে পরাভূত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৬৪ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৭৩ ও ১/১০১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১ জানুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/১৩৩ ও ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ এগিয়ে যায়।
১৯৬৫ সালে নিজ দেশে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৭ মে, ১৯৬৫ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে বিই কংডনের প্রথম উইকেট লাভ করে টেস্টে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/১৮ ও ২/৮৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৮ জুলাই, ১৯৬৫ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে তাঁকে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে হয়নি। তবে, বল হাতে নিয়ে ০/১৬ ও ৫/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৮৭ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
১৯৬৫ সালে নিজ দেশে পিটার ফন ডার মারউই’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৫ আগস্ট, ১৯৬৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ২০ ও ৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসেই অ্যাথল ম্যাককিননের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪৪ ও ২/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলায় তাঁর দল ৯৪ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ২৬ আগস্ট, ১৯৬৫ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৫৭ ও ১/৭৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৮ জানুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৩ ও ৫৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/১১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৯ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণে সক্ষম হয়।
এরপর, ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪২* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৮৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ‘বব কাউপারের টেস্ট’ নামে পরিচিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়।
১৯৬৬ সালে নিজ দেশে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ জুন, ১৯৬৬ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/৮৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৫ ও ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ৪০ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ১৬ জুন, ১৯৬৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৬ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৮ ও ০/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পূর্বের টেস্ট জয়ের সুবাদে সফরকারীরা এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৪ আগস্ট, ১৯৬৬ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৬ ও ২২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৫ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে যায়।
১৯৭৪-৭৫ মৌসুমে মাইক ডেনিসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১১ ও ২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৭ ও ০/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৬৩ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ৮ মার্চ, ১৯৭৫ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।
খামখেয়ালীপূর্ণ দূর্ঘটনার কবলে পড়ে তাঁর চারটি পায়ের আঙ্গুল হারান। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে এমসিসি দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। প্রথম দুই টেস্ট ড্রয়ের পর বার্বাডোসে তৃতীয় টেস্ট চলাকালীন অধিনায়ক কলিন কাউড্রে’র পত্নী পেনিসহ আরও কয়েকজন নৌভ্রমণে যান। যন্ত্রচালিত নৌকায় এক পর্যায়ে পিছলে তাঁর পায়ের চার আঙ্গুল প্রপেলারে কাটা পড়ে। ছোট্ট হাসপাতালে চিকিৎসা করেন। দূর্ঘটনার চারদিন পরই হাঁটতে থাকেন। আট সপ্তাহ পর জার্মানির মুচেংলাডাখে ব্রিটিশ আর্মি একাদশের বিপক্ষে খেলেন। মিডলসেক্সের পক্ষে খেলার পূর্বে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। ৬৩ রান ও ৬/৪৪ পান।
পরবর্তী গ্রীষ্মে মিডলসেক্সের পক্ষে ৩০ খেলায় অংশ নিয়ে ১৯.৩৭ গড়ে ১১১ উইকেট দখল করেছিলেন। এছাড়াও, পাঁচটি অর্ধ-শতক সহযোগে ২৫.৩৫ গড়ে ৯২৪ রান তুলেছিলেন। ব্যাটিং গড়ে শীর্ষে ছিলেন। দ্য টাইমসে জন উডকক মন্তব্য করেন যে, ‘সাগর থেকে তাঁকে নেয়া হলে তাঁকে আর খেলার জগতে দেখতে না পাবার সম্ভাবনা বেশী ছিল। তাঁর প্রত্যাবর্তন অনেকাংশেই সুন্দর চিকিৎসা, সৌভাগ্য ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির ফলে সম্ভব হয়েছে।’ বীমা প্রতিষ্ঠান থেকে এ ঘটনার ক্ষতিপূরণ হিসেবে £৯৮ পাউন্ড-স্টার্লিং লাভ করেন।
‘ফ্রেড টিটমাস: মাই লাইফ ইন ক্রিকেট’ শীর্ষক গ্রন্থ প্রকাশ করেন। ২৩ মার্চ, ২০১১ তারিখে ৭৮ বছর বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
