|

জ্যাক রাসেল

১৫ আগস্ট, ১৯৬৩ তারিখে গ্লুচেস্টারশায়ারের স্ট্রাউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিং করতেন ও ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

অসাধারণ উইকেট-রক্ষণের কারণে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখবেন। স্বল্প কয়েকজন ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে সৌর টুপি ব্যবহার করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।

১৯৮৭ থেকে ১৯৯৮ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৫৪ টেস্ট ও ৪০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২২ নভেম্বর, ১৯৮৭ তারিখে পেশাওয়ারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।

১৯৮৮ সালে নিজ দেশে রঞ্জন মাদুগালে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৫ আগস্ট, ১৯৮৮ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ফিল নিউপোর্ট, কিম বার্নেটডেভিড লরেন্সের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৯৪ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, ফিল নিউপোর্টের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পায়।

সব মিলিয়ে টেস্টে দুইটিমাত্র শতরানের সন্ধান পান। তন্মধ্যে, ১৯৯৬ সালে সফররত ভারত দলের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে অন্যতম স্মরণীয় ইনিংস খেলেন। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ১২৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এরফলে, লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করেন।

দলের সংগ্রহ ১০৭/৫ থাকাকালে মাঠে নামেন। ছয় ঘণ্টার অধিক সময় ক্রিজে অবস্থান করেন। শট নির্বাচনে যথেষ্ট সচেতনতার পরিচয় দেন। ষষ্ঠ উইকেটে গ্রাহাম থর্পের সাথে ১৩৭ ও সপ্তম উইকেটে ক্রিস লুইসের সাথে ৮৩ রানের জুটি গড়েন। আম্পায়ার ডিকি বার্ড তাঁর শেষ টেস্ট পরিচালনা করেন ও শেষ খেলোয়াড় হিসেবে তাঁকে বিদেয় করেন। এ পর্যায়ে দলের সংগ্রহ ৩৪৪ রান হয়। সাহসী ভূমিকা গ্রহণের কারণে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। অবশ্য, ঐ খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে স্বাগতিক দল জয়লাভ করে। ১৯৮৮ সালে একই মাঠে সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯৪ রান তুলেছিলেন।

১৯৮৯ সালের গ্রীষ্মে অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ড দল শোচনীয়ভাবে পরাস্ত হলেও আলোকচ্ছটা ছড়িয়েছিলেন। ব্যাট ও গ্লাভস হাতে নিয়ে অপরিসীম ভূমিকা রেখেছিলেন। ঐ বছরের শুরুতে ইংল্যান্ডের পক্ষে তিনি কেবলমাত্র একটি টেস্ট খেলেছিলেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে সুবিধে করতে না পারায় একদিনের দলের বাইরে রাখা হয়। ঐ বছরের শেষে একমাত্র ইংরেজ হিসেবে যে-কোন বিশ্ব একাদশের সদস্য হিসেবে খেলার যোগ্য ছিলেন।

১৯৮৯ সালে নিজ দেশে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৬ জুলাই, ১৯৮৯ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৮৯-৯০ মৌসুমে গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের অন্যতম সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, অ্যালান ল্যাম্বের দূর্দান্ত শতকের কল্যাণে ঐ খেলায় সফরকারীরা খুব সহজেই ৯ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৯০ সালে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৩ আগস্ট, ১৯৯০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে সফররত ভারতের বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

১৯৯১ সালে নিজ দেশে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৪ জুলাই, ১৯৯১ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে উভয় ইনিংসে ৩ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। কার্টলি অ্যামব্রোসের দূর্দান্ত বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ সমতায় চলে আসে।

১৯৯১-৯২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৮ জানুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখেন। তবে, ফিল টাফনেলের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৪ রানে পরাজয়বরণ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ২০ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ১৮ ও ২৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। অ্যালেক স্টুয়ার্টের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর সুবাদে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯৯২ সালে নিজ দেশে জাভেদ মিয়াঁদাদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ২ জুলাই, ১৯৯২ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও সমসংখ্যক ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। আমির সোহেলের দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। ১৬ এপ্রিল, ১৯৯৪ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন।  ব্রায়ান লারা’র ত্রি-শতকের কারণে সংবাদ শিরোনামে পরিণত হওয়া ঐ খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ৬২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯৯৫ সালে নিজ দেশে রিচি রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১০ আগস্ট, ১৯৯৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৫ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। কেনি বেঞ্জামিনের প্রাণান্তঃকর প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ নভেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলার একমাত্র ইনিংসে তিনি ৫০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ও মন্দালোকের কবলে পড়া খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ৩০ নভেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি ১২ ও ২৯* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের প্রথম দিন ৫১ রানে থাকা ড্যারিল কালিনানের ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫ রানে থাকাকালে পরবর্তী ৭২ মিনিট তিনি কোন রান সংগ্রহ করতে পারেননি। তাঁর এ ইনিংসটি ৪ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট স্থায়ী ছিল। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে ১১টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। খেলার চতুর্থ দিন ১১টি ক্যাচ নিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েন। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড কৃতিত্বে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। খেলায় তিনি দলনায়কের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৯৬ সালে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৬ জুন, ১৯৯৬ তারিখে বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে বেঙ্কটেশ প্রসাদের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। তবে, নাসের হুসাইনের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। কার্ল হুপারের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে জয় পেলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ২০* ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। অ্যাঙ্গাস ফ্রেজারের বোলিং দাপটে সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয় পেলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা বিরাজ করে।

একই সফরের ১২ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। মার্ক রামপ্রকাশের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২০ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ০ ও ৯ রান সংগ্রহ করেন। দ্বীননাথ রামনারায়ণের সুন্দর বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৫২ রানে পরাভূত হলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৯০ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট