২৭ মে, ১৯৭৫ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার মাউন্ট ললি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
‘মি. ক্রিকেট’ কিংবা ‘হাস’ ডাকনামে ভূষিত মাইকেল হাসি ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি (১.৮০ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। টেডি হাসি ও হেলেন হাসি দম্পতির সন্তান। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ভূমিকা পালন করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহাম, গ্লুচেস্টারশায়ার ও নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপার কিংস, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, সেন্ট লুসিয়া জুকস ও সিডনি থান্ডারের পক্ষে খেলেছেন।
২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৭৯ টেস্ট, ১৮৫টি ওডিআই ও ৩৮টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।
২০০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে শিবনারায়ণ চন্দরপলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩ নভেম্বর, ২০০৫ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ২৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। দলীয় অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের দৃঢ়চেতা ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ১৭ নভেম্বর, ২০০৫ তারিখে হোবার্টে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি ১৩৭ ও ৩১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর দূর্দান্ত ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ২০০৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলীয় অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের জোড়া শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
একই মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরতি সফরে যান। ৩১ মার্চ, ২০০৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৭৩ ও ৮৯ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে নিকি বোয়ে’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। ব্রেট লি’র দূর্দান্ত অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা নাটকীয়ভাবে ২ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০০৫-০৬ মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। ১৬ এপ্রিল, ২০০৬ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ১৮২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জেসন গিলেস্পি’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিক দল ইনিংস ও ৮০ রানে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০০৭-০৮ মৌসুমে নিজ দেশে অনিল কুম্বলে’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৬ জানুয়ারি, ২০০৮ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৪৬ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে আরপি সিংয়ের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ইরফান পাঠানের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৭২ রানে জয় পেলেও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকে।
২০০৮ সালে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৩০ মে, ২০০৮ তারিখে নর্থ সাউন্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১০ ও ৪০ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। শিবনারায়ণ চন্দরপলের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১২ জুন, ২০০৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ ও ১৮ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, সায়মন ক্যাটিচের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮৭ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০০৮-০৯ মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ভারত সফরে যান। ৯ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪৬ ও ৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জহির খানের আপ্রাণ প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ১৭ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে মোহালিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৫৪ ও ১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক এমএস ধোনি’র অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২০ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৬ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিদায়ী টেস্টে ৯০ ও ১৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। জেসন ক্রেজা’র অনবদ্য বোলিং সত্ত্বেও স্বাগতিক দল ১৭২ রানে জয় পায় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
চারবার অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। নিয়মিত অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের অনুপস্থিতির সুযোগে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২০০৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। তবে, কোনবারই তাঁর দল জয়লাভ করতে পারেনি।
২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ০ ও ২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ডেল স্টেইনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ৩ জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩০ ও ৪৫* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, পিটার সিডলের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০৩ রানে জয় পেলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
একই মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের অন্যতম সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরতি সফরে যান। ৬ মার্চ, ২০০৯ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫০ ও ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ফিলিপ হিউজের অসাধারণ জোড়া শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ১৭৫ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ১৯ মার্চ, ২০০৯ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ১৮ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৩০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ২০ ও ৩৯ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ডেল স্টেইনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। পল হ্যারিসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২০ রানে জয়লাভ করলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০০৯ সালে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৩০ জুলাই, ২০০৯ তারিখে বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৬৪ রান সংগ্রহ করেন। তবে, মাইকেল ক্লার্কের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
একই সফরের ২০ আগস্ট, ২০০৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ১২১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্টুয়ার্ট ব্রডের অসাধারণ অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১৯৭ রান পরাজয়বরণ করলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০০৯-১০ মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৯ মার্চ, ২০১০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মাইকেল ক্লার্কের ব্যাটিং বদান্যতায় স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০১০-১১ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৩ ডিসেম্বর, ২০১০ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৯৩ ও ৫২ রান সংগ্রহ করেন। তবে, কেভিন পিটারসনের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭১ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০১১-১২ মৌসুমে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের অন্যতম সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ৩১ আগস্ট, ২০১১ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৯৫ ও ১৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। নিচুমুখী রানের খেলায় তাঁর অনবদ্য ব্যাটিং কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ১২৫ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
একই সফরের ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১ তারিখে পল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/০ ও ১/২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসামান্য ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০১২-১৩ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৯ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১০০ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মাইকেল ক্লার্কের অসাধারণ দ্বি-শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
৩০ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৬০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ১২ ও ২৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/২৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। হাশিম আমলা’র অনবদ্য ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৩০৯ রানে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০১২-১৩ মৌসুমে নিজ দেশে মাহেলা জয়াবর্ধনে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে সিডনির এসসিজিতে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৫ ও ২৭* রান সংগ্রহসহ চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১ ও ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জ্যাকসন বার্ডের অনবদ্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় তুলে নেয়ার পাশাপাশি ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে ঊনিশ শতক সহযোগে ৫১.৫৩ গড়ে ৬২৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাসত্ত্বেও দলের অবহেলিত খেলোয়াড় ছিলেন। অথচ, সমসংখ্যক টেস্ট থেকে বিখ্যাত ক্রিকেটার নীল হার্ভে তাঁর তুলনায় ৮৬ রান কম তুলেছেন ও গড়ে তিন রান কম সংগ্রহ করেছিলেন। বেশ দেরীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ওয়াহ যুগের পর অস্ট্রেলীয় ব্যাটিংয়ের অন্যতম খুঁটি হিসেবে বিবেচিত হতেন। আকর্ষণীয় ধাঁচে ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন না করলেও তাঁর মাঝে দৃঢ়প্রত্যয়ী মনোভাব ও মানসিক শক্তিমত্তার সাথে অপরিসীম রুখে দাঁড়ানোর ক্ষমতা লক্ষ্য করা যেতো।
২০১২ সালের শেষদিকে ক্রিকেট জগৎ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। চেন্নাই সুপার কিংসের ব্যাটিং কোচ হিসেবে মনোনীত হন। ৫ মে, ২০২১ তারিখে কোভিড-১৯ বৈশ্বিক অতিমারিতে আক্রান্ত হন। এরফলে, ২০২১ সালের আইপিএলের আসরে প্রথম বিদেশী হিসেবে নেতিবাচক ফলাফলের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। এরপূর্বে অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, মাইকেল ভন ও শেন ওয়ার্নের সাথে ধারাভাষ্যকর্মের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। অ্যামি হাসি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির জেসমিন হাসি ও মলি হাসি নাম্নী কন্যা এবং উইলিয়াম হাসি নামীয় পুত্র রয়েছে। তাঁর ভ্রাতা ডেভিড হাসি অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
