১৬ জুন, ১৯২৭ তারিখে নর্দাম্বারল্যান্ডের রাইডিং মিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত পেশাদার ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইংল্যান্ডের অন্যতম দর্শনীয় ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পান। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার ও ওরচেস্টারশায়ার এবং অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭১-৭২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ২০ বছরের অধিক সময় নিয়ে খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করে ১২২ শতক সহযোগে প্রায় ৪৫ গড়ে আটচল্লিশ হাজার রানের মতো সংগ্রহ করেছেন।
১৯৫১ থেকে ১৯৬৯ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৭৯ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ৪৪.৩৮ গড়ে রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯৫১ সালে নিজ দেশে ডাডলি নোর্সের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের মুখোমুখি হন। ৫ জুলাই, ১৯৫১ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৯ উইকেটে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৫১-৫২ মৌসুমে নাইজেল হাওয়ার্ডের নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয়সারির এমসিসি দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের সন্ধান পায়। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৯ ও ২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৮ রানে জয় পেলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ করতে সমর্থ হয়।
১৯৫২ সালে নিজ দেশে বিজয় হাজারে’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৫ জুন, ১৯৫২ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৭১ ও ২০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২৯ জুন, ১৯৫২ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাভূত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১৭ জুলাই, ১৯৫২ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইনিংস ও ২০৭ রানে পরাজয়বরণ করলে সফরকারীরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৫৩ সালে নিজ দেশে লিন্ডসে হ্যাসেটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১১ জুন, ১৯৫৩ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২২ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ২৫ জুন, ১৯৫৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৭৮ ও ২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ৯ জুলাই, ১৯৫৩ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে লিওনার্ড হাটনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৫ জানুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৬ ও ৩৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ১৪০ রানে জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৫ ও ৬৪* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ক্লাইড ওয়ালকটের মনোরম দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ১৮১ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে লিওনার্ড হাটনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১১১ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও স্বাগতিকরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৫৫ সালে নিজ দেশে জ্যাকি ম্যাকগ্লিউ’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৭ জুলাই, ১৯৫৫ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ১ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রেই নীল অ্যাডককের বলে বিদেয় নেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয়লাভ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ২১ জুলাই, ১৯৫৫ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ১০ ও ৩৬ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ২২৪ রানে পরাজয়বরণ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে এগুতে থাকে।
১৯৫৬ সালে নিজ দেশে ইয়ান জনসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৭ জুন, ১৯৫৬ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮ ও ১০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ২১ জুন, ১৯৫৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫ ও ১৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ১৮৫ রানে জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৫৭ সালে নিজ দেশে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ আগস্ট, ১৯৫৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ১৬৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৩৭ রানে জয়লাভ করলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯৫৮-৫৯ মৌসুমের শীতকালে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ৫ ডিসেম্বর, ১৯৫৮ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৯ ও ৩৬ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৯ জানুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৩ ও ২২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পূর্বের দুই টেস্টে পরাজয়বরণ করলে সফরকারী পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ৩০ জানুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪১ ও ৫৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১০ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯ ও ৫৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৯ উইকেটে পরাজিত হলে সফরকারীরা ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৬২-৬৩ মৌসুমে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৫ জানুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ২২ ও ৩৬* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৬৬ সালে নিজ দেশে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৪ আগস্ট, ১৯৬৬ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৮ ও ১৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৫ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে যায়।
এরপর, ১৮ আগস্ট, ১৯৬৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৬৫ রান তুলে রান-আউটে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩৪ রানে জয় পেলেও ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৬৭ সালে নিজ দেশে মনসুর আলী খান পতৌদি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৮ জুন, ১৯৬৭ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫৯ ও ১৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ভাগবত চন্দ্রশেখরের শিকারে পরিণত হন। ৬ উইকেটে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে কলিন কাউড্রে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৮ মার্চ, ১৯৬৮ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২৭ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৬৮ সালে নিজ দেশে বিল লরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২২ আগস্ট, ১৯৬৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৬৩ ও ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২২৬ রানে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা সিরিজটি ড্র করতে সমর্থ হলেও সফরকারীরা অ্যাশেজ কুক্ষিগত রাখে।
১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে কলিন কাউড্রে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে পাকিস্তান সফরে যান। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৬৯ সালে নিজ দেশে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ জুন, ১৯৬৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৭৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৭০ সাল পর্যন্ত ওরচেস্টারশায়ারের পক্ষে খেলা চলমান রাখেন। শেষ মৌসুমে এসেও প্রায় ৬৩ গড়ে রান সংগ্রহ করেছিলেন। কুইন্সল্যান্ডে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে খেলোয়াড়-কোচের যৌথ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ইংল্যান্ডে ফিরে ১৯৭৯ সালে বেতার সম্প্রচারক ও পরবর্তীতে বিবিসি’র টেলিভিশন ধারাভাষ্যকার দলে যোগ দেন।
১৯৫৩ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ১৯৬৮ সালে ক্রিকেটে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ওবিই উপাধী লাভ করেন। তাঁকে ঘিরে স্টিফেন ফে ‘টম গ্রেভনি এট লর্ডস’ গ্রন্থ প্রকাশ করেন। তাঁর ৭০তম জন্মবার্ষিকীকে ঘিরে ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ১৯৯৭ সালে ক্রিস্টোফার মার্টিন-জেনকিন্স মন্তব্য করেন যে, ‘১৯৪৮ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত দীর্ঘ খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। আমি বিশ্বাস করি যে, তাঁর ন্যায় অপর কেউ অধিক দর্শনীয় কিংবা উৎফুল্ল ব্যাটসম্যান ছিলেন না।’ ২০০৪ সালে এমসিসি’র প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত হন। এরফলে, প্রথম সাবেক পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এ দায়িত্ব পালনের গৌরব অর্জন করেন।
২০০৯ সালে আইসিসি ক্রিকেট হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। ৯ জুলাই, ২০০৯ তারিখে ওয়েলসের কার্ডিফের সলেক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এনপাওয়ার অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টে আইসিসি প্রেসিডেন্ট ডেভিড মর্গ্যান তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ৩০ আগস্ট, ১৯৫২ তারিখে জ্যাকুলিন মেরি ব্রুকম্যান নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। টিম গ্রেভনি ও রেবেকা নাম্নী সন্তানদ্বয়ের জনক। দীর্ঘদিন পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত হন। অতঃপর, ৩ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে গ্লুচেস্টারশায়ারের ফেইদফুল হাউজে সর্দি-জ্বরে ভুগে ৮৮ বছর ১৪০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর জীবন ও অর্জনকে ঘিরে ওরচেস্টার ক্যাথেড্রালে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
