৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে বার্বাডোসের গেস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘ক্যাস্ট্রো’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি (১.৬৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটা বেশ দৃষ্টিনন্দন ছিল। তবে, পরবর্তীতে এ ধারা অব্যাহত রাখতে পারেননি। আঘাতও এতে জড়িয়েছিল। ফলশ্রুতিতে, নিজেকে কখনো ধারাবাহিকতার সাথে মেলে ধরতে পারেননি। ডানহাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে চমৎকার পেস ও উভয় দিক দিয়ে বলকে সুইং করাতে পারতেন।
২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০১৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোস, কম্বাইন্ড ক্যাম্পাসেস ও কলেজেস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ডেকান চার্জার্স, জ্যামাইকা তল্লাজ, রাজস্থান রয়্যালস, রংপুর রাইডার্স, সেন্ট লুসিয়া জুকস, সিডনি থান্ডার, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো রেড স্টিল ও উইনিপেগ হকসের পক্ষে খেলেছেন। ২০০৬ সালে কুলিজে অ্যাঙ্গুইলার সদস্যরূপে বার্বাডোসের বিপক্ষে টি২০ খেলায় প্রথম অংশ নেন।
২০০৩ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৩ সালে নিজ দেশে হাসান তিলকরত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৭ জুন, ২০০৩ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। শুরুটায় বেশ দারুণভাবে খেলেছিলেন। ৫/৩৬ ও ১/৫৪ লাভের মাধ্যমে দলের বিজয় নিশ্চিত করেন। তবে, কোরি কোলিমোরের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে খেলায় স্বাগতিক দল সাত উইকেটে জয় পায় ও ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
এর কয়েকমাস পর ২৯ নভেম্বর, ২০০৩ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই সিরিজে আশানুরূপ খেলতে পারেননি। এরপর, টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েন। এছাড়াও, ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্যে দলে ঠাঁই পাননি। পরবর্তীতে, তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ-উইকেট লাভ করেন।
২০০৩-০৪ মৌসুমে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৬ জানুয়ারি, ২০০৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/১২৮ ও ০/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০* ও ১০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। হার্শেল গিবসের দূর্দান্ত শতকের উপর ভর করে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
একই মৌসুমে নিজ দেশে মাইকেল ভনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১০ এপ্রিল, ২০০৪ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। তবে, বল হাতে নিয়ে ২/৭০ ও ১/৮১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলীয় অধিনায়ক ব্রায়ান লারা’র অপরাজিত চতুর্শতকের কল্যাণে খ্যাতি পাওয়া ঐ টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০০৪ সালে নিজ দেশে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৮ মে, ২০০৪ তারিখে গ্রোস আইলেটে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭৮ ও ২/৬১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই বছর ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৯ আগস্ট, ২০০৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্টিভ হার্মিসনের অনবদ্য অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
২০০৫-০৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। এ মৌসুমে শিবনারায়ণ চন্দরপলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ৯ মার্চ, ২০০৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ২* রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭৬ ও ২/৬৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। শেন বন্ডের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২৭ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০০৭ সালে রামনরেশ শারওয়ানের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৭ জুন, ২০০৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০* ও ০ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৯৪ ও ১/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মন্টি পানেসরের অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬০ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
২০০৮ সালে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৩০ মে, ২০০৮ তারিখে নর্থ সাউন্ডে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৯৮ ও ২/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে মিচেল জনসনের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। শিবনারায়ণ চন্দরপলের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ১২ জুন, ২০০৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১ ও ৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৩/৫৫ ও ১/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, সায়মন ক্যাটিচের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮৭ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০০৯ সালে ক্রিস গেইলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ১৪ মে, ২০০৯ তারিখে চেস্টার-লি-স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/১১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১১ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। জেমস অ্যান্ডারসনের অসাধারণ বোলিং দাপটে সফরকারীরা ইনিংস ও ৮৩ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এ সিরিজে ২৭ রান সংগ্রহসহ ৭ উইকেট দখল করে রবি বোপারা’র সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।
২০০৯ সালে টি২০ বিশ্বকাপে আঘাতের কারণে তেমন ভালো খেলতে পারেননি। নিউজিল্যান্ড সফরে ৭/৮৭ পান। এ পর্যায়ে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। আরোগ্য লাভের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে খেলেন। তবে, আইপিএলে অংশ নিতে ডেকান চার্জার্সের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। আবারও আঘাতের কবলে পড়েন। ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ফিরে আসতে পারেননি।
২০১১ সালে নিজ দেশে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২০ জুন, ২০১১ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭ ও ১৫* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৫৬ ও ১/৭০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। রাহুল দ্রাবিড়ের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ৬৩ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০১২-১৩ মৌসুমে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ২১ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে খুলনায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশে বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৬/৯০ ও ১/৯৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মারলন স্যামুয়েলসের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিক দল ১০ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
এক পর্যায়ে কোলপ্যাক চুক্তির অধীনে হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে খেলেন। ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ফিরে আসার কথা জানান। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি২০আই দলের সদস্যরূপে পুণরায় যুক্ত করা হয়।
