১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪১ তারিখে ইয়র্কশায়ারে থার্নস্কো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী জন হ্যাম্পশায়ার রদারহামভিত্তিক ওকউড টেকনিক্যাল হাইয়ে অধ্যয়ন করেছেন। ‘জ্যাক’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারে তাঁর জন্ম। মাঝারিসারির দর্শনীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। ইনিংসের ভিত্তি আনয়ণে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার, লিচেস্টারশায়ার ও ইয়র্কশায়ার এবং অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে তাসমানিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬১ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ইয়র্কশায়ার দলের অধিনায়কত্ব করেছেন ও তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা লাভ করেছেন। দলটির পক্ষে বিশ সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন।

১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্ট ও তিনটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ২৬.৮৬ গড়ে ৪০৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯৬৯ সালে নিজ দেশে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হন। ২৬ জুন, ১৯৬৯ তারিখে লর্ডসে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৪ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট সময় ব্যয় করে ১০৭ রানের শতক হাঁকিয়ে অভিষেক টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখেন। এরফলে, লর্ডসে অভিষেকে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। দলের সংগ্রহ ৬১/৫ থাকা অবস্থায় অ্যালান নটের সাথে ১২৮ রানের জুটি গড়েন। এরপর, রে ইলিংওয়ার্থের সাথে ৬০ রান তুলেন। জন শেফার্ডের বলে এলবিডব্লিউতে বিদেয় নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ রান তুলে প্যাভিলিয়নমুখী হন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।

১৯৭০-৭১ মৌসুমে রে ইলিংওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। অ্যাডিলেড টেস্টে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়াও, ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্রুতলয়ে ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। তবে, শতক হাঁকানো সত্ত্বেও দলে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পাননি।

একই সফরের ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজের সপ্তম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১০ ও ২৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ৬১ রানে পরাভূত হলে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

ঐ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। রে ইলিংওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফর করেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪০ ও ৫১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৭৫ সালে নিজ দেশে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ আগস্ট, ১৯৭৫ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এছাড়াও, ওডিআইয়ের ইতিহাসের উদ্বোধনী খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ার হিসেবে খেলা পরিচালনায় অগ্রসর হন। ১৯৯৯ সালে আইসিসি’র আম্পায়ারদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হন। ২০০৫ সালে এ দায়িত্ব থেকে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত ২৫ টেস্ট ও ২৮টি ওডিআইয়ে আম্পায়ার ও টিভি আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, ২০ বছরের দীর্ঘ সময় নিয়ে ৩৪৯টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন। তবে, ২০১৪ সাল পর্যন্ত লিস্ট-এ ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছিলেন। এক পর্যায়ে ২০১৬ সালে বিখ্যাত আম্পায়ার ডিকি বার্ডের পরিবর্তে ইয়র্কশায়ারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত হন।

১ মার্চ, ২০১৭ তারিখে ৭৬ বছর ১৯ দিন বয়সে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট