১৯ এপ্রিল, ১৯৬৬ তারিখে ভিক্টোরিয়ার বক্স হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘পিস্টল’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। বলের উপর চমৎকার নিয়ন্ত্রণ রাখতেন এবং নিখুঁত নিশানা বরাবর বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ২০০০-০১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ার ক্লাবের ৫৫৫তম খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত হন।

২০০০ সালে শারীরিক পরীক্ষায় শোয়েব আখতার অকৃতকার্য্য হলে নটসের দ্বিতীয় পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবে তিনি যুক্ত হন। বিশ্বকাপের শিরোপা বিজয়ী দলের সদস্য হিসেবে জুনের মাঝামাঝি সময়ে ইংল্যান্ডে আসেন। তাৎক্ষণিকভাবে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির খেলায় মিডলসেক্সের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। অস্ট্রেলীয় দলীয় সঙ্গী জাস্টিন ল্যাঙ্গারের নেতৃত্বাধীন মিডলসেক্সের বিপক্ষে খেলায় তিনি উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেন ও খুব সহজেই প্রতিপক্ষ দল জয়লাভ করেন। তিনদিন পর ন্যাশনাল লীগের খেলায় নটসের সদস্যরূপে এসেক্সের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম উইকেটের সন্ধান পান ও দল জয়লাভ করে।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৩৫ টেস্ট ও ৯২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯১-৯২ মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৪ জানুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। একই সফরের ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ওয়েন ফিলিপসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৬ ও ২/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ক্রেগ ম্যাকডারমটের অপূর্ব বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩০০ রানে পরাভূত হলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। মার্টিন ক্রো’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১২ নভেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে পার্থে সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৪৩ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়ে ৫১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ২/৭৫ ও ০/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, অ্যান্ড্রু জোন্সের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জানুয়ারি, ১৯৯৬ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫/৩৯ ও ১/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৫৬ ও ১৪* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, স্টিভ ওয়াহ’র অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা ১৪৮ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ করায়ত্ত্ব করে।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নিজ দেশে কোর্টনি ওয়ালশের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ নভেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ও ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৫৮ ও ১/৫৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইয়ান হিলি’র অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১২৩ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৭ নভেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৫৬ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৭৭ ও ২৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫৩ ও ২/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলীয় অধিনায়ক মার্ক টেলরের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৮৬ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে মার্ক টেলরের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ভারত গমন করেন। ৬ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/২৭ ও ০/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৫ ও ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। শচীন তেন্ডুলকরের ব্যাটিং দাপটে সফরকারীরা ১৭৯ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দলের স্মরণীয় সাফল্যের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগৎ থেকে বিদেয় জানান। ২০০১-০২ মৌসুম শেষে রাজ্য ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ধাবিত হন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট আম্পায়ার হিসেবে মনোনীত হন ও আইসিসি এলিট প্যানেল আম্পায়ার তালিকার সদস্য হন। ৮৫ টেস্ট, ১২৪টি ওডিআই ও ৩৩টি খেলা পরিচালনা করেছেন। ডিসেম্বর, ২০১৬ সালে ভারত-ইংল্যান্ডের মধ্যকার সিরিজের চতুর্থ টেস্টে খেলা চলাকালীন ফিল্ডারের নিক্ষিপ্ত বলে মাথায় চোট পান। তবে, টেস্টে আম্পায়ারদের মাথায় হেলমেট পরিধানের চিন্তাধারা বাদ দেন। ২০১৯ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় খেলা পরিচালনা করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট