|

জ্যাক নিটস্কে

১৪ এপ্রিল, ১৯০৫ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘স্লিঙ্গার’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। আগ্রাসী বামহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৩৪-৩৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অনেকগুলো বছর সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে পর্যাপ্ত রান সংগ্রহ করেছিলেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ তুলনামূলকভাবে দূর্বল অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে, নিজের সেরা বছরগুলোয় ডন ব্র্যাডম্যান, পন্সফোর্ড, উডফুল, জ্যাকসন, ম্যাককাবে ও কিপাক্সের সাথে তুলনায় চলে আসতেন।

১৯৩১ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় খেলাই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুমে নিজ দেশে জক ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৭ নভেম্বর, ১৯৩১ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৬ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ইনিংস ও ১৬৩ রানে পরাভূত হলে সফরকারীরা পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৩১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৪৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইনিংস ও ১৫৫ রানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৩২-৩৩ মৌসুমে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার সদস্যরূপে ডি. আর. জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের বিপক্ষে দুই খেলায় অংশ নিয়ে ৬৭, ২৮, ৩৮ ও ৮৭ রান তুলেন। দৃষ্টিনন্দন ও আত্মবিশ্বাসী মনোভাব নিয়ে খেললে ইংরেজদের ধারনা ছিল যে তিনি হয়তোবা টেস্টগুলোয় অংশ নিয়ে আরও ভালো করতেন।

উপর্যুপরী চার মৌসুম নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে শতক হাঁকিয়েছিলেন। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে সিডনিতে দলের সংগ্রহ ২৪৬ রান হলেও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ১৩০ রান তুলেন। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে অ্যাডিলেডে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম চারজন ব্যাটসম্যানের অন্যতম হিসেবে তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেছিলেন। সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়ে নয় শতক সহযোগে ৪২.০৩ গড়ে ৩৩২০ রান তুলেছিলেন।

অবসর গ্রহণের পর ঘোড়া উৎপাদনের সাথে জড়িত ছিলেন। ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার নর্থ অ্যাডিলেড এলাকায় ৭৭ বছর ১৬৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট