১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে বার্বাডোসের সেন্ট ম্যাথিয়াস গ্যাপ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

উইকেটের কাছাকাছি এলাকায় অসাধারণ ফিল্ডার হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। শুরুতে মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললেও খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে এসে ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে বেশ আকর্ষণীয় ভঙ্গীমায় খেলতেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে বার্বাডোসের পক্ষে বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকই তাঁকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার হিসেবে চিত্রিত করেছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম থেকে ১৯৭৪-৭৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে ব্রিটিশ গায়ানার বিপক্ষে দূর্দান্ত শতক হাঁকান। ফলশ্রুতিতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। সতেরো বছরের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে বার্বাডোসের পক্ষে ৪৮.৭০ গড়ে ৩৯৯৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে, শেল শীল্ডে ছয় শতক সহযোগে ৫৫.৮৩ গড়ে ২৭৩৬ রান তুলেছিলেন।

১৯৬০ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬০-৬১ মৌসুমে ফ্রাঙ্ক ওরেলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৯ ডিসেম্বর, ১৯৬০ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ক্যামি স্মিথের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম টাই টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে অ্যালান ডেভিডসনের দ্বিতীয় বলে বোল্ড হন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৯ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি টাইয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এ সফরে তেমন উল্লেখযোগ্য ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। সিরিজের প্রথম ও শেষ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। চার ইনিংস থেকে ৭৮ রান তুলেছিলেন।

পরবর্তীতে, ১৯৬৬ সালে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমনের সুযোগ পান। সিরিজের তৃতীয় ও চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। নটিংহামে ধৈর্য্যশীলতার স্বাক্ষর রেখে ৪৯ রান তুলেন। তবে, লিডসে ব্যর্থ হন। এরপর আর তাঁকে দলে রাখা হয়নি। ৪ আগস্ট, ১৯৬৬ তারিখে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১ রান খরচায় জিওফ্রে বয়কটের একমাত্র উইকেট পেয়েছিলেন। তবে, সফরকারীরা ইনিংস ও ৫৫ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

বার্বাডোসের অন্যতম প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁকে বিবেচনায় আনা হয়েছিল। তবে, মাইকেল ম্যানলি তাঁর ‘এ হিস্ট্রি অব ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে’ তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, বলের নিশানা বরাবর ব্যাটকে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হবার ফলে তাঁকে অধিক খেলার সুযোগ দেয়া হয়নি। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বেশ ভালোমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করলেও একই ধারা টেস্টে বহমান রাখতে পারেননি।

৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ তারিখে ৮৬ বছর ২০৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট