১৪ আগস্ট, ১৮৯২ তারিখে জ্যামাইকার ফ্রাঙ্কলিন টাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

লেগ-স্পিনার হিসেবে তিনি কেবলই লেগ-ব্রেক বোলিং উপর নির্ভর করতেন। সচরাচর বাতাসের প্রতিকূলে বলকে ধীরগতিতে ফেলার দিকে নজর দিতেন। এরফলে, ব্যাটসম্যানেরা পরাস্ত হতো। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। জ্যামাইকার খ্যাতিসম্পন্ন তারকা ক্রিকেটারের মর্যাদা পেয়েছিলেন। ১৯১০-১১ মৌসুম থেকে ১৯৩৪-৩৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

১৯২৮ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯২৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্ট সিরিজ খেলতে টেডি হোডের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডে যান। এ সফরে দুই টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ২১ জুলাই, ১৯২৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। টমি স্কটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩২ ও ৩* রান তুলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ৩০ রানে পরাভূত হলে সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯২৯-৩০ মৌসুমে নিজ দেশে সম্মানীয় এফ. এস. জি. ক্যালথর্পের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৩ এপ্রিল, ১৯৩০ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/২৬৬ ও ৪/১০৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়।

১৯৩০-৩১ মৌসুমে জ্যাকি গ্রান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। তন্মধ্যে, অ্যাডিলেডে সিরিজের প্রথম টেস্টে নয় বলে কোন রান খরচ বাদেই চার উইকেট তুলে নিয়েছিলেন।

১২ ডিসেম্বর, ১৯৩০ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/৮৩ ও ০/৫৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৩ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১০ উইকেটে পরাজিত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১১ ও ২০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ইনিংস ও ১২২ রানে পরাজিত হলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৪২ ও ১/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কোন ইনিংসেই তাঁকে ব্যাট হাতে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি। সফরকারীরা ৩০ রানে জয়লাভ করলেও ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ঘরোয়া ক্রিকেটে যুঁৎসই খেলা উপহার দিলেও টেস্ট ক্রিকেটে ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি। টেস্টে সর্বাধিক রান খরচের ন্যায় অমর্যাদাকর রেকর্ডের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২২.৪০ গড়ে ১৩২২ রান সংগ্রহ করেন ও ২৮.৭০ গড়ে ২০৩ উইকেট দখল করেছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। এএইচপি স্কট নামীয় সন্তানের জনক। ১৫ জুন, ১৯৬১ তারিখে জ্যামাইকার মাটিল্ডাস কর্নার এলাকায় ৬৮ বছর ৩০৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট