১ জুন, ১৯৭৬ তারিখে নারায়ণগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘বিদ্যুৎ’ ডাকনামে পরিচিতি পান। মূলতঃ ঝড়োগতিতে ও সাবলীল ভঙ্গীমায় ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিকেট খেলায় অগ্রসর হয়েছিলেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ভূমিকা রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে ঢাকা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৯৭ থেকে ২০০৪ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট ও ২০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১০ অক্টোবর, ১৯৯৭ তারিখে নাইরোবির জিমখানায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক কেনিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের বিপক্ষে দলের স্মরণীয় বিজয়ের সাথে নিজের সেরা মুহূর্ত উদযাপন করেন। ফাস্ট বোলারদের শর্ট বলগুলোকে দারুণভাবে মোকাবেলা করে সহজাত ড্রাইভ মেরেছেন। নর্দাম্পটনে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় শোয়েব আখতার, ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনুসের ন্যায় ফাস্ট বোলারদের রুখে দিয়ে বেশ কিছু বাউন্ডারির মারে মহামূল্যবান ৩৯ রান করেছিলেন।
বিশ্বকাপের অল্প কয়েক মাস পূর্বে মার্চ, ১৯৯৯ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ত্রি-দেশীয় মেরিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে কেনিয়ার বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৯৫ রান করেন। এরফলে অল্পের জন্য প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ওডিআইয়ে শতক হাঁকানো থেকে বঞ্চিত হন ও মেহরাব হোসেন এ অনন্য গৌরবের সাথে নিজেকে জড়ান। ঐ প্রতিযোগিতার অপর দল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আরও একটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, ঐ বছরের শেষদিকে অক্টোবর মাসে বাংলাদেশে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুইবার চল্লিশের কোটা স্পর্শ করেছিলেন।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ২০০০-০১ মৌসুমে নিজ দেশে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১০ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মেহরাব হোসেনের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। জবাগাল শ্রীনাথের করা প্রথম বলটি স্বার্থকভাবে মোকাবেলা করে ইতিহাসের পর্দায় ঠাঁই করে নেন। প্রায় দেড় ঘন্টা ক্রিজে অবস্থান করে মাত্র ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। মেহরাব হোসেনের বিদেয় নেয়ার পর আউট হন। তৃতীয় দিনের পুরোটা সময় আঘাতের কারণে খালেদ মাসুদ মাঠের বাইরে ছিলেন। ফলশ্রুতিতে, তিনি উইকেট-রক্ষণে এগিয়ে আসেন ও নাইমুর রহমানের বলে বিস্ময়করভাবে সাবা করিমকে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম স্ট্যাম্পিং করার কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। সফরকারীরা ৯ উইকেটে জয়লাভ করে।
চার বছর টেস্ট দলের বাইরে অবস্থানের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। সিরিজের উভয় টেস্টেই অংশ নিয়েছিলেন। এ সফরেই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৩১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে প্রথম টেস্টে পরাজয়ের ফলে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
আঘাতপ্রাপ্তি তাঁর নিত্য সঙ্গী ছিল। তবে, পুণরায় আঘাতের কবলে পড়লে ও ছন্দহীনতার কারণে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি টানেন। সব মিলিয়ে টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনে মাত্র ৯৯ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।
