২৫ এপ্রিল, ১৯৬৯ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, রেফারি ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

বিদ্যালয় পর্যায়ের ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলেছিলেন। আনন্দ কলেজে অধ্যয়নকালে প্রথম একাদশের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৮-৮৯ থেকে ২০০০-০১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব, নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাব ও সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এরপর, মাঝে-মধ্যে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এর পরপরই জাতীয় দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হয়েছিলেন।

১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট ও ১৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে নিজ দেশে সেলিম মালিকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৩ আগস্ট, ১৯৯৪ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। একদিনের আন্তর্জাতিকের সিরিজের শুরুটা বেশ ভালোভাবে খেলেছিলেন। নিজস্ব দ্বিতীয় খেলায় ৭০ রান তুলেন।

একই সফরের ২৬ আগস্ট, ১৯৯৪ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। রবীন্দ্র পুষ্পকুমারাচামিণ্ডা ভাসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৫ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ওয়াকার ইউনুসের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৫২ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। তন্মধ্যে, একটি টেস্ট পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়েছিল।

১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ২০ অক্টোবর, ১৯৯৪ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৪ ও ১০০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই মৌসুমে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১১ মার্চ, ১৯৯৫ তারিখে নেপিয়ারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ১২ ও ৭ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, চামিণ্ডা ভাসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে নিউজিল্যান্ড দল ঐ টেস্টে ২৪১ রানে পরাজিত হলে সিরিজে পরাজয়বরণ করে। স্মর্তব্য যে, বিদেশের মাটিতে এটিই শ্রীলঙ্কার প্রথম টেস্ট জয় ছিল।

তবে, এরপর থেকেই তাঁর খেলায় দূর্বলতার ছাঁপ পরিলক্ষিত হয়। ১৪ জানুয়ারি, ১৯৯৬ তারিখে পার্থে অংশগ্রহণকৃত ওডিআইগুলোর সর্বশেষটি খেলেন। ওডিআইয়ের সাথে তুলনান্তে টেস্ট ক্রিকেটে বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন। জিম্বাবুয়ের সফরে উপর্যুপরী শতক হাঁকান। নিজস্ব দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্ট শতরানের ইনিংস খেলায় পর সাত টেস্টে তাঁর ব্যাটিং গড় দাঁড়ায় ৫৯.৭১। এ পর্যায়ে নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকার লড়াইয়ে বেশ হিমশিম খেতে থাকেন। এক পর্যায়ে দল থেকে বাদ পড়েন।

অনেকটা বিতর্কিতভাবে জুন, ১৯৯৭ সালে পুণরায় তাঁকে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা হয়। ঐ বছর অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমনের সুযোগ পান। তবে, আবারও দূর্বল খেলা প্রদর্শন করলে তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি টানতে হয়। ২০ জুন, ১৯৯৭ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে ৯ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। তবে, কার্ল হুপারের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

বিখ্যাত ও জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র ন্যায় তিনি কখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। তবে, বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে নিজের সহজাত প্রতিভার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর রেফারি ও ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট