৯ জুলাই, ১৯৩০ তারিখে নাটালের পিটারমারিৎজবার্গে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

কিংবদন্তীতূল্য ক্রিকেটারের মর্যাদা পেয়েছিলেন। নাটালের পক্ষে ক্রিকেট ও রাগবি খেলতেন। তবে, গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া হিসেবে ক্রিকেটকেই বেছে নেন। ১৯৪৯-৫০ মৌসুম থেকে ১৯৬৫-৬৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৫১ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ৪০ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। বেশ মন্দভাবে শুরু করার কারণে প্রসিদ্ধি পান। টেস্টগুলোর এগারোটিতে শূন্য রানের সন্ধান পেয়েছিলেন। তবে, একবার উইকেটে থিতু হবার পর দ্রুততার সাথে রান তুলতেন। ভীতিদায়ক হুক ও কাট সামলে রান সংগ্রহে তৎপর হতেন।

১৯৫১ সালে ডাডলি নোর্সের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ত্রিশোর্ধ্ব গড়ে রান পেয়েছেন। ৫ জুলাই, ১৯৫১ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২০ ও ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৯ উইকেটে পরাভূত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৫২-৫৩ মৌসুমে জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৫ ডিসেম্বর, ১৯৫২ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ৩৮ রান সংগ্রহ করেন। ৯৬ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৩ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৬৭ রান অতিক্রম করেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৮ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৮১ ও ৭৬* রান সংগ্রহ করেন। সফরকারীরা ৬ উইকেটে জয় পেলে ২-২ ব্যবধানে সিরিজটি শেষ হয়।

একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে টেস্ট খেলেন। ৬ মার্চ, ১৯৫৩ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৮০ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে নিজ দেশে জিওফ রাবোনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১১ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৮২ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। এছাড়াও, টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। দলের একমাত্র ইনিংসে ১০১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৮ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৭ ও ৩৬ রান সংগ্রহ করেন। সফরকারীরা ১৩২ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৫৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ৭৬ রান তুলে দলের বিজয়ে স্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। অজি দল ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও তাঁর ইনিংসের কল্যাণে স্প্রিংবকরা জয় পায় ও সিরিজটি ড্রয়ে পরিণত হয়।

১৯৫৫ সালে জ্যাকি ম্যাকগ্লিউ’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। লর্ডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪২ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস খেলেন। দলের ১৯৬ রানের মধ্যে এ ইনিংস খেলাকালীন বেশ কয়েকবার সৌভাগ্যের সন্ধান পান। একটি ছক্কা ও ২১টি চারের মারে তাঁর ইনিংসটি গড়ে উঠেছিল। ওল্ড ট্রাফোর্ডে জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় ধাবিত দলের পক্ষে ক্ষীপ্রতার সাথে ৫০ রান তুলেন। এরফলে, মাত্র নয় বল বাকী থাকতে তাঁর দল জয় পায়। এ পর্যায়ে ফ্রাঙ্ক টাইসনের দ্রুতগতিসম্পন্ন বল সাহসী চিত্তে হুক করেছিলেন।

একই সফরের ২১ জুলাই, ১৯৫৫ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৪১ ও ৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। সফরকারীরা ২২৪ রানে জয়লাভ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে শেষ হয়।

১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে নিজ দেশে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জানুয়ারি, ১৯৫৭ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০০ ও ৪ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৬০ সালে জ্যাকি ম্যাকগ্লিউ’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৯ জুন, ১৯৬০ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৯ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ২১ ও ৬৮ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ফ্রেড ট্রুম্যানের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। সফরকারীরা ১০০ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২১ জুলাই, ১৯৬০ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১০৯ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এ সফরে স্বল্প কয়েকজনের অন্যতম হিসেবে বিরাট সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬১ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন।

১৯৬১ সালে অনানুষ্ঠানিক সফরে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ৪ ডিসেম্বর, ১৯৬৪ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩০ ও ৯ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ডেভিড অ্যালেনের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। ইনিংস ও ১০৪ রানে পরাভূত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৬৪ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১২ ও ২৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

টেস্টগুলো থেকে ৩০ গড়ে ২১২০ রান তুলেছিলেন। তাঁর সময়কালে অপর উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান জ্যাকি ম্যাকগ্লিউ যদি অধিকতর কার্যকর হন তাহলে তিনি সেরা বিনোদনকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

ক্রিকেটের বাইরে রাগবি খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৯৫৩ সালে সফররত অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে ড্রপ গোল করে নাটাল দলের বিজয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। বারবারা নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির দুই কন্যা ছিল। দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। অতঃপর, ২৬ আগস্ট, ২০০৭ তারিখে গটেংয়ের জোহানেসবার্গে ৭৭ বছর ৪৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট