|

ইয়ান থমসন

২৩ জানুয়ারি, ১৯২৯ তারিখে স্টাফোর্ডশায়ারের পলফ্রে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

স্টাফোর্ডশায়ারে জন্মগ্রহণ করলেও শৈশবকাল এসেক্সে অতিবাহিত করেছেন। এসেক্স ইয়ং এমেচার্সের পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। আরএএফে জাতীয় সেবার দায়িত্ব পালনের পর তাঁর পরিবার ব্রাইটনে চলে আসে। ১৯৫২ সালে শৌখিন খেলোয়াড় হিসেবে নতুন কাউন্টির পক্ষে প্রথম খেলেন। হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম প্রীতি খেলায় অংশ নিয়ে দ্রুতগতিতে ১১৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।

বলিষ্ঠ, খোশমেজাজী ও ক্লান্তিহীন খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর যথেষ্ট সুনাম ছিল। সারাদিন ধরে বোলিং করার ক্ষমতা রাখতেন। সাসেক্সের মিডিয়াম পেস বোলারদের মধ্যে কেবলমাত্র মরিস টেটের সাথেই তাঁকে তুলনা করা হতো। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৭২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

১৯৫২ সালে সাসেক্সের সদস্যরূপে নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক ঘটে। অস্ট্রেলীয় জক লিভিংস্টোনের উইকেট লাভ করে যাত্রা শুরু করেন। ঐ মৌসুমে ৪৫ উইকেট দখল করেছিলেন। ঐ বছর পেশাদারী পর্যায়ে খেলতে শুরু করেন। পরের বছর ডেভিড শেফার্ডের কাছ থেকে কাউন্টি ক্যাপ গ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত উপর্যুপরী বারো মৌসুমে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। এরফলে, মরিস টেটের রেকর্ডের সমকক্ষ হন।

১৯৫৩ সালে গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে চার বল থেকে তিন উইকেট লাভ করেন। এছাড়াও, ১৯৫৭ সালে কেন্টের বিপক্ষে এ সাফল্যের পুণরাবৃত্তি ঘটান। ১৯৫৬ সালে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ৮/৭৯ লাভ করেছিলেন। এরপর, ১৯৫৭ সালে নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে ৭/১২ পান। তন্মধ্যে, এক পর্যায়ে আট বল থেকে কোন রান খরচ না করেই চার উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন।

১৯৬৪ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ৪ ডিসেম্বর, ১৯৬৪ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ পাননি। তবে, বল হাতে নিয়ে ১/২৩ ও ১/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ইনিংস ও ১০৪ রানে পরাভূত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৭ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১২৮ ও ২/৫৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১ আগস্ট, ২০২১ তারিখে ওয়েস্ট সাসেক্সের হেনফিল্ড এলাকায় ৯২ বছর ১৯০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট