|

ডেল রিচার্ডস

১৬ জুলাই, ১৯৭৬ তারিখে বার্বাডোসের আইসোলেশন রোড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

দৃষ্টিনন্দন স্ট্রোক খেলতেন। বেশ দেরীতে ২৩ বছর বয়সে ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটান। শারউইন ক্যাম্পবেল চলে যাবার পর দলে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পান। খুব দ্রুত নিজেকে নির্ভরযোগ্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি ঘটান। তবে, পঞ্চাশের কোটা স্পর্শ করলেও শতরানের সন্ধান পাননি। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের জন্যে আরও দশ বছর অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল। এমনকি, দলে ঠাঁই পেতে তাঁকে বেশ হিমশিম খেতে হয়। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে বেশ সাড়া জাগিয়েছিলেন। ২০০৮-০৯ মৌসুমের প্রথম খেলায় ৬৫ ও ১১৩ রান তুলেন। এরফলে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার জন্যে তাঁকে টেস্ট দলে ঠাঁই দেয়া হয়।

২০০৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট, আটটিমাত্র ওডিআই ও একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে কাঁধের আঘাতের কারণে ইংল্যান্ড গমন করা থেকে বঞ্চিত হন। কিন্তু, ২০০৯ সালে বেশ কয়েকজন শীর্ষসারির খেলোয়াড়দের আর্থিক মতানৈক্যের কারণে তাঁকে নিজ দেশে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার সুযোগ দেয়া হয়। এ সুযোগকে কাজে লাগান। ঐ বছর নিজ দেশে মাশরাফি মর্তুজা’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ৯ জুলাই, ২০০৯ তারিখে সেন্ট ভিনসেন্টের কিংসটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। চাদউইক ওয়ালটন, কেমার রোচ, নিকিতা মিলার, উমর ফিলিপস, রায়ান অস্টিন ও ট্রাভিস ডাউলিনের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৩ ও ১৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তামিম ইকবালের অসাধারণ ব্যাটিং কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ৯৫ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ১৭ জুলাই, ২০০৯ তারিখে সেন্ট জর্জেসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি আগ্রাসী ব্যাটিং করে ৬৯ ও ১২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা সাকিব আল হাসানের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। একই সফরের ২৬ জুলাই, ২০০৯ তারিখে রোজিওতে ওডিআই ও ২ আগস্ট, ২০০৯ তারিখে বাসেতেরেতে টি২০আইয়ে প্রথম খেলেন।

এরপর, একই বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেন। তবে, মূল খেলোয়াড়দের প্রত্যাবর্তনে এ সিরিজ শেষে তাঁকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়। ২০১০ সালে নিজ দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ খেলতে তাঁকে পুণরায় দলে ফিরিয়ে আনা হয়। এ পর্যায়ে আঘাতপ্রাপ্ত শিবনারায়ণ চন্দরপলের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুইটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেললেও তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। উভয়ক্ষেত্রেই তাঁর দল পরাজয়বরণ করে।

২০১০ সালে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৬ জুন, ২০১০ তারিখে বার্বাডোসের কেনসিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ১৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণের সাথে নিজেকে জড়ান। যোহান বোথা’র বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এরপর, আর তাঁকে খেলতে দেখা যায়নি। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট