|

রায়ান অস্টিন

১৫ নভেম্বর, ১৯৮১ তারিখে ত্রিনিদাদের অ্যারিমা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ২০০০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোস এবং কম্বাইন্ড ক্যাম্পাসেস ও কলেজেসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ২০০৮-০৯ মৌসুমের ঘরোয়া ক্রিকেটে কম্বাইন্ড ক্যাম্পাসেস ও কলেজেসের সদস্যরূপে ২৪.০৬ গড়ে ৬০ উইকেট দখল করেছিলেন।

২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয়ক্ষেত্রেই তিনি সফরকারী বাংলাদেশ দলের মোকাবেলা করেছিলেন। আর্থিক মতানৈক্যের কারণে নিয়মিত একাদশ ধর্মঘট পালন করলে সাতজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে তাঁকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে রাখা হয়। ঐ বছর নিজ দেশে মাশরাফি মর্তুজা’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ৯ জুলাই, ২০০৯ তারিখে কিংসটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। চাদউইক ওয়ালটন, ডেল রিচার্ডস, কেমার রোচ, নিকিতা মিলার, উমর ফিলিপস ও ট্রাভিস ডাউলিনের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৭ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৫ ও ১/৭৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তামিম ইকবালের অসাধারণ ব্যাটিং কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ৯৫ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ১৭ জুলাই, ২০০৯ তারিখে সেন্ট জর্জেসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১৯ ও ৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে শাহাদাত হোসেনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। পাশাপাশি বল হাতে নিয়ে ১/২৯ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা সাকিব আল হাসানের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

তবে, দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া ঐ সিরিজে ব্যাট কিংবা বল হাতে তেমন সুবিধে করতে না পারায় পরবর্তীতে দলের বাইরে চলে যেতে হয়। টেস্টগুলো থেকে ৫১.৬৬ গড়ে তিন উইকেট দখল করেছিলেন।

ব্যাট হাতে দারুণ খেললেও বল আটকানো ও বল আটকানোর দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটান। এরপর, ওডিআই সিরিজ থেকে উপেক্ষিত হন এবং আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতায় তাঁকে রাখা হয়নি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও ঘরোয়া পর্যায়ে ঠিকই কার্যকর অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলে যান।

সম্পৃক্ত পোস্ট