১৫ জুলাই, ১৯৫০ তারিখে ভিক্টোরিয়ার অল্টোনা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৭২-৭৩ মৌসুম থেকে ১৯৮০-৮১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭২-৭৩ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে খুব একটা সময় নেননি জাতীয় দলে খেলার জন্যে।

১৯৭৪ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১২ টেস্ট ও আটটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে নিজ দেশে বেভান কংডনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৬ জানুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অ্যাশলে উডকক ও জিওফ ডাইমকের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একমাত্র ইনিংসে ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৫৬ ও ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৭ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

এ পর্যায়ে দলীয় ব্যবস্থাপনায় ঘূর্ণায়মান নীতির আলোকে আঘাতপ্রাপ্ত ম্যাক্স ওয়াকারের পরিবর্তে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে, দূর্বল খেলার কারণে কয়েক বছর দলের বাইরে থাকেন।

প্যাকার সিরিজের কারণে দলে খেলোয়াড়ের সঙ্কট দেখা দিলে পুণরায় তাঁকে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ পর্যায়ে ফাস্ট বোলারের প্রতিশ্রুতিশীলতা তুলে ধরেন। ১৯৭৫ সালে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন।

একই মৌসুমে নিজ দেশে বিষেন বেদী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৩১ ও ২/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০* ও ২৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১৬ রানের ব্যবধানে নাটকীয় জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক ব্রিয়ার্লি’র নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। বিপর্যয়কর অ্যাশেজ সিরিজের সাথে জড়ান। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৫৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলীয় অধিনায়ক গ্রাহাম ইয়ালপের অসাধারণ ব্যাটিং সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ৫-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

এরপর নিজ দেশে পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা খেলা প্রদর্শন করলেও দূর্ভাগ্যবশতঃ খুব বেশী খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি।

ভারত সফরে গেলেও উপমহাদেশীয় পরিবেশের সাথে তাল মিলাতে বেশ হিমশিম খান। দুই খেলায় কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। এরপর দল থেকে বাদ পড়েন ও আর তাঁকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলতে দেখা যায়নি। ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে কিম হিউজের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০/৯৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে অভিষেক ঘটা শিবলাল যাদবের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ওডিআই খেলোয়াড়ী জীবন সংক্ষিপ্ত হলেও ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। এমনকি পাঁচ-উইকেটেরও সন্ধান পেয়েছেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে মোটেই সুবিধের ছিলেন না। টেস্টের ২০ ইনিংসের ১০টিতে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছেন। তন্মধ্যে, একবার জোড়া শূন্য লাভ করেছিলেন।

শারীরিকভাবে চমৎকার দেহসৌষ্ঠবের অধিকারী ছিলেন ও বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। কিন্তু, শারীরিক অসচেতনতার কারণেই মূলতঃ অধিক খেলায় অংশগ্রহণে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। অথচ, অপরাপর গুণাবলীর কোন ঘাটতি তাঁর মাঝে বিরাজমান ছিল না।

খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণের পর রেফারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ৪৫ টেস্ট, ১০২টি ওডিআই, ২৬টি টি২০আই ও ৬টি মহিলাদের টি২০আই পরিচালনা করেছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট