|

রস এডওয়ার্ডস

১ ডিসেম্বর, ১৯৪২ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার কটস্লো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, মাঝারিসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

দলে ভারসাম্য রক্ষায় অগ্রসর হতেন। মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে ভূমিকা রাখলেও প্রয়োজনীয় মুহূর্তে ইনিংস উদ্বোধনেও নামতেন। এছাড়াও, কভার অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। অবশ্য, খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হয়েছিলেন। খেলায় যে-কোন অবস্থানে বিশ্বস্ততার সাথে খেললেও মাঝারিসারিতে খেলতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। শুরু থেকেই খেলায় পরিপক্কতা আনয়ণে সচেষ্ট হন ও জাতীয় দলে খেলার পূর্বে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

১৯৬৪-৬৫ মৌসুম থেকে ১৯৭৯-৮০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রায় আট বছর পর জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২০ টেস্ট ও নয়টিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২৯ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরের সুযোগ পান। ১৯৭২ সালে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২২ জুন, ১৯৭২ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। হিউ ম্যাসি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৮ উইকেটে জয় পায় ও ১-১ ব্যবধানে সিরিজে সমতা আনে।

এরপর, ১৩ জুলাই, ১৯৭২ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। ট্রেন্ট ব্রিজে নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে আপদকালীন মুহূর্তে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন। ১৭০ রানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন। দৃশ্যতঃ তাঁকে নতুন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে চিত্রিত করা হয়। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।

তবে, পরের টেস্টে জোড়া শূন্য পেলে পুণরায় তাঁকে মাঝারিসারিতে নিয়ে যাওয়া হয়। একই সফরের ২৪ আগস্ট, ১৯৭২ তারিখে ম্যানচেস্টারে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৭৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আসরে খেলেন। ২১ জুন, ১৯৭৫ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত খেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন।

১৯৭৫ সালে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৩১ জুলাই, ১৯৭৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯৯ ও ৫২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২৮ আগস্ট, ১৯৭৫ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪৪ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে দুই শতক সহযোগে ৪০.৩৮ গড়ে ১১৭১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯৭৭ সালে ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে অংশ নেন। এর খেসারত গুণেন ও তাঁকে আর জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা হয়নি। তবে, ঘরোয়া ক্রিকেটের সাথে জড়িয়েছিলেন। ১৯৭৯-৮০ মৌসুম শেষে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ইংল্যান্ডে চলে যান। কয়েক মৌসুম ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নেন। পেশাগত জীবনে তিনি হিসাবরক্ষক।

সম্পৃক্ত পোস্ট