৩ জুলাই, ১৯১১ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের নানকারগেট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান ছিলেন। পিতা জো হার্ডস্টাফ সিনিয়র নটিংহ্যামশায়ার ও ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণে পরবর্তীতে ক্রিকেটে জড়িয়ে পড়েন। নিজের সময়কালে অন্যতম দর্শনীয় ও কৌশলগতভাবে সহজাত ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ার ও নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, সার্ভিসেস ও ইউরোপিয়ান্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৩০ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের ৩৪৫ নম্বর খেলোয়াড় ছিলেন।
হ্যারল্ড লারউড তাঁকে নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে খেলার জন্যে সুপারিশ করেন। এরপর থেকেই ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক – উভয় পর্যায়ের ক্রিকেটেই বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবন অতিক্রমকালে নিজের প্রতিভা বিকাশে ভূমিকা রাখতে থাকেন। চ্যাম্পিয়নশীপে নিজস্ব দ্বিতীয় খেলায় অপরাজিত অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। কিন্তু, পরবর্তী তিন মৌসুমে তাঁকে বেশ হিমশিম খেতে হয়। এক পর্যায়ে অধিনায়ক আর্থার কার তাঁকে নিচেরদিকে ব্যাটিংয়ে নামান। ১৯৩৪ সালে চার শতক সহযোগে ১৮১৭ রান পার। চার নম্বর অবস্থানকে পাকাপোক্ত করেন।
১৯৩৫ থেকে ১৯৪৮ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২৩ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ৪৬.৭৪ গড়ে ১৬৩৬ রান তুলেছিলেন। ১৯৩৫ সালে নিজ দেশে হার্বি ওয়েডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৩ জুলাই, ১৯৩৫ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ডেনিস স্মিথ, জিম সিমস ও উইল্ফ বারবারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১০ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে যান। এ সফরে প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ১০৪৪ রান তুলেন। তবে, অ্যাশেজ সফরে নিজেকে তেমন মেলে ধরতে পারেননি।
১৯৩৬ সালে নিজ দেশে বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৭ জুন, ১৯৩৬ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ টেস্টে ইংল্যান্ড দল ৯ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৩ ও ২০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৩২২ রানের ব্যবধানে বিশাল জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩ ও ১৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৩৬৫ রানে পরাজয়বরণ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
এরপর, ২৯ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে তিনি ২০ ও ৪৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় অস্ট্রেলিয়া দল ১৪৮ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-২ ব্যবধানে সমতা আনতে সমর্থ হয়।
নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে ১৯৩৭ সালে তিনটি দ্বি-শতক ও পাঁচটি শতক সহযোগে ২৫৪০ রান সংগ্রহ করেন। এ মৌসুমে ক্যান্টারবারিতে কেন্টের বিপক্ষে মাত্র ৫১ মিনিটে দ্রুততম শতক হাঁকিয়ে ওয়াল্টার লরেন্স ট্রফি লাভ করেন। এ ইনিংটি ১২৬ রানে শেষ হয়।
১৯৩৭ সালে নিজ দেশে কার্লি পেজের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৬ জুন, ১৯৩৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৯৫ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ১১৪ ও ৬৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ১৪ আগস্ট, ১৯৩৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১০৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৩৮ সালে নিজ দেশে ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২০ আগস্ট, ১৯৩৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৬৯* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এ পর্যায়ে ষষ্ঠ উইকেটে লেন হাটনের (৩৬৪) সাথে ২১৫ রানের জুটি গড়েন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৭৯ রানে জয়লাভ করলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়।
১৯৩৯ সালে নিজ দেশে রল্ফ গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জুন, ১৯৩৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২২ জুলাই, ১৯৩৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৭৬ ও ১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ টেস্ট ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১৯ আগস্ট, ১৯৩৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৯৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
১৯৪৬ সালে নিজ দেশে ইফতিখার আলী খান পতৌদি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২০ জুলাই, ১৯৪৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে লালা অমরনাথের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। এরপর, ৩ মার্চ, ১৯৪৮ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩ ও ৬৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২৭ মার্চ, ১৯৪৮ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৯ ও ৬৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ১০ উইকেটে পরাজিত হলে তাঁর দল ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৪৮ সালে নিজ দেশে ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১০ জুন, ১৯৪৮ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৪৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৩৮ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ১ জানুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের ওয়ার্কসপ এলাকার হাসপাতালে ৭৮ বছর ১৮২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। জে. হার্ডস্টাফ নামীয় সন্তান ফ্রি ফরেস্টার্সের পক্ষে দুইটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছে।
