২০ জুলাই, ১৯৭৬ তারিখে ওরিষ্যার ভুবনেশ্বরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে ওড়িশার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
মিডিয়াম পেসার হিসেবে ১৯৯০-এর দশকে ভারতের ওডিআই দলে দূর্দান্ত খেলতেন। খোলা বুক নিয়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। বলে ইন-সুইং আনয়ণ করতে পারতেন ও ব্যাটসম্যানদেরকে বিভ্রান্তিতে ফেলতেন। মিডিয়াম পেস বোলিং করলেও তিনি দলে নিয়মিতভাবে স্থান লাভে ব্যর্থ হন। ১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিষেকের বছরেই ভারতীয় দর্শকদের আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিলেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ দর্শকেরা কেবলমাত্র ব্যাটসম্যানদের দিকেই অধিক ঝুঁকে পড়তেন। তবে, খুব কম সময়ই তাঁদেরকে উৎফুল্ল রাখতে পেরেছিলেন।
১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে ভারতীয় ক্রিকেটে নবজোয়ার আসে। শচীন তেন্ডুলকরের ন্যায় ব্যাটসম্যান এ ধারার উত্থান ঘটান। কিন্তু, ভারতের সাধারণমানের বোলিং আক্রমণ খুব কমই দর্শকদের মনযোগ আকর্ষণ করতে পেরেছিল। এ সময়েই ওরিষ্যার লিকলিকে ডানহাতি ফাস্ট বোলার হিসেবে তাঁর আবির্ভাব ঘটে। বিদেশের মাটিতে ভারতের সফলতায় কিছুটা ভূমিকা রাখতে শুরু করেন।
১৯৯৭ সালে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলী অবে কুরুবিল্লা ও হরবিন্দর সিংয়ের ন্যায় মিডিয়াম পেসারদেরকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়। তবে, তাঁরা দল নির্বাচকদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হলে ঐ একই বছর তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ সংস্করণের খেলায় তুলনামূলকভাবে ভালো করেন।
১৯৯৭ থেকে ২০০১ সময়কালে ভারতের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও ৪৫টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের প্রথম মৌসুমে দারুণ ক্রীড়াশৈলী অতিবাহিত করার পরপরই ১৯৯৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ লাভে সক্ষম হন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে শচীন তেন্ডুলকরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ৯ আগস্ট, ১৯৯৭ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৪/৭৮ ও ০/৭২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, অরবিন্দ ডি সিলভা’র জোড়া শতকে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১৯ নভেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে মোহালীতে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৫৭ ও ০/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে তাঁকে ব্যাটিংয়ে নামতে হয়নি। অরবিন্দ ডি সিলভা’র অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে টরন্টোয় অনুষ্ঠিত সাহারা কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলে নিজেকে সামনে নিয়ে আসেন। ঐ সিরিজে সৌরভ গাঙ্গুলী’র অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের পাশাপাশি দ্বিতীয় ওডিআইয়ে তিন উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান দলকে স্বল্প রানে আটকাতে দারুণ ভূমিকা রাখেন। ঐ বছরের শেষদিকে শ্রীলঙ্কা সফরে ওডিআই সিরিজে দারুণ ছন্দে থাকলেও বেশ রান দেন।
পরবর্তী কয়েক বছর ওডিআই দলে খেলার সুযোগ পান। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় পেসারদের উপযোগী পিচে উইকেট পেয়েছেন। তবে, কেনিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত খেলায়ই সেরা সাফল্য পেয়েছিলেন। বিশেষতঃ স্বাগতিক দলের বিপক্ষে শুরুরদিকে উইকেট নিয়ে ভারত দলকে সুপার সিক্স পর্বে উত্তরণ ঘটাতে তৎপরতা দেখান।
ঐ বিশ্বকাপের পর দলে আসা-যাবার পালায় আসতে থাকেন। ২০০১ সালে নিজস্ব সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন। ২০১০ সাল পর্যন্ত ওড়িষ্যা দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
