৪ আগস্ট, ১৯৬৮ তারিখে কেরালার মন্নার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব ও চেশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সাথে ঘরোয়া ক্রিকেটে বোম্বে দলে বোলিং করতেন। দৃষ্টিনন্দন বোলিংয়ে দলের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, খেলোয়াড়ী জীবনের শেষ পর্বে এসে ১৯৯৭ সালে ভারত দলের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান। জবাগল শ্রীনাথের মাংসপেশীতে টান পড়ার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবকটি খেলাই ঐ বছর খেলেন। উভয় স্তরের ক্রিকেটেই ২৫ উইকেট দখল করেছিলেন। তাসত্ত্বেও, ক্রিকেটবোদ্ধাদের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন ও সমর্থকদের সজাগ রাখতেন। বলকে সুনিয়ন্ত্রিত পন্থায় ফেলে ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বেশ সুচারূরূপে অফ-কাটার বোলিং করতেন।
৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে ভারতের অন্যতম লম্বুটে খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। এছাড়াও, প্রশস্ত কাঁধ ও পেশীবহুল বাহু ছিল তাঁর। দূর্ভাগ্যবশতঃ তিনি সেরা ফাস্ট-মিডিয়াম এবং সুইং ও নিখুঁতভাব বজায় রাখলেও বলে পেস আনয়ণ করতে পারতেন না।
সাবেক ইংরেজ ফাস্ট বোলার ফ্রাঙ্ক টাইসনের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেন। এরপর থেকে তরতর করে তাঁর খেলার মানের উন্নতি ঘটে। অনেকটা আকস্মিকভাবেই রঞ্জী ট্রফিতে অভিষেক ঘটে তাঁর। বিশ্ববিদ্যালয়ের যাঁচাই-বাছাইয়ে স্বল্প কয়েকটি বলে তাঁর নিপুণতা ধরা পড়ে। হরিয়াণার বিপক্ষে নিষ্প্রাণ পিচে ৪/১২৮ পেয়েছিলেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ দূর্ভাগ্যজনকভাবে ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে রান-আউটের শিকার হন ও অশ্রুসিক্ত নয়নে দিলীপ বেঙ্গসরকারের প্রাণান্তঃকর প্রয়াস ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়ে পড়ে। ঐ খেলায় তাঁর দল ২ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল। ১৯৯০-৯১ মৌসুমে বোম্বের পক্ষে খেলেন। পরের মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৫০-এর অধিক উইকেট পান। দূর্ভাগ্যজনকভাবে পরবর্তী ৫-৬ বছর পর্যন্ত জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর উপেক্ষার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন।
১৯৯৭ সালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ১০ টেস্ট ও ২৫টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে জবাগল শ্রীনাথ আঘাতের কবলে পড়লে ভারতের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান। ঐ মৌসুমে শচীন তেন্ডুলকরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৬ মার্চ, ১৯৯৭ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় এগুতে থাকে। ৩/৮২ ও ১/৫৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান।
বার্বাডোসে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে ৫/৬৮ বোলিং করে বেশ প্রশংসা কুড়ান। তবে, বেঙ্কটেশ প্রসাদসহ তাঁর প্রাণান্তঃকর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ভারত দল পরাজিত হয়েছিল। একই সফরের ২৬ এপ্রিল, ১৯৯৭ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে প্রথম খেলেন।
সফরকারী দলগুলো ভারতে খেললেও তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। ১৯৯৭ সালের শেষদিকে মোহালিতে সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চার-উইকেট পান। এছাড়াও, ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৭ সালে কলম্বোর এসএসসিতে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুণ খেলেন। চার-উইকেট পেলেও ঐ খেলায় সফরকারীরা পরাজয়বরণ করেছিল।
১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ৩ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। খেলায় তিনি ২/৬২ ও ০/১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় ঐ টেস্টসহ সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।
টেস্ট ও ওডিআই – উভয় স্তরের ক্রিকেটেই ৩০-এর মাঝামাঝি গড়ে উইকেট দখল করেছেন। তবে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৭ গড়ে ২৯০ উইকেট দখল করেছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে শক্ত বোলিং নিয়ে গড়া মুম্বই দলের সদস্য ছিলেন। সলিল আঙ্কোলা, পরস হাম্ব্রে, নীলেশ কুলকার্নি ও পরবর্তীতে অজিত আগরকরের সাথে একত্রে খেলেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফির শিরোপা বিজয়ী মুম্বই দলের সদস্যরূপে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য হন। ২০১১-১২ মৌসুমের সর্ব-ভারতীয় জুনিয়র নির্বাচক কমিটির প্রধান হিসেবে নিযুক্তি লাভ করেন। এ সময়ে ২০১২ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় উন্মুক্ত চাঁদের নেতৃত্বে দল শিরোপা জয় করেছিল। পরের মৌসুমে মুম্বইয়ের প্রধান দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন। ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০ তারিখে ভারত দলের নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্যরূপে মনোনীত হন।
