|

মুকেশ কুমার

১২ অক্টোবর, ১৯৯৩ তারিখে বিহারের গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে খেলেছেন।

২০১৫-১৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি ক্যাপিটালসের পক্ষে খেলেছেন। ৩০ অক্টোবর, ২০১৫ তারিখে রোহতকে অনুষ্ঠিত বাংলা বনাম হরিয়াণার মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে প্রবেশ করেন। তাঁর বোলিংয়ের ধরন অনেকাংশেই জশ হ্যাজলউডের ন্যায়। ধারাবাহিকতা রক্ষা করাসহ বলে বৈচিত্র্যতা আনয়ণে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। ঘরোয়া ক্রিকেটে সেরা ব্যাটসম্যানদেরকেও বিভ্রান্তিতে ফেলেছেন। বাংলা দলের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছেন। বেশ নিখুঁত নিশানা বরাবর দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলিং করেন। শেষ তিন মৌসুমের দুইটিতে রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রেখেছেন। ঈষান পোরেল ও আকাশ দীপকে সাথে নিয়ে ২০১৯-২০ ও ২০২২-২৩ মৌসুমে বাংলা দল চূড়ান্ত খেলায় অংশ নেয়। এছাড়াও, পূর্ববর্তী দুই মৌসুমে ভারতের ‘এ’ দলের প্রত্যেক সফরে তিনি ছিলেন। ভারত ‘এ’ দলের পক্ষে দারুণ সফলতা পেয়েছেন। ১৭.৫০ গড়ে ১৮ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, নিউজিল্যান্ড ‘এ’ ও বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে পাঁচ-উইকেট লাভ করেছেন।

২৩ জুন, ২০২৩ তারিখে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরকে ঘিরে মোহাম্মদ শামিকে বিশ্রামে ও উমেশ যাদবকে দল থেকে বাদ দেয়া হলে যশস্বী যশওয়াল, রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের সাথে তাঁকেও ভারতের টেস্ট দলে ঠাঁই দেয়া হয়। ২০২৩ সালে রোহিত শর্মা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২০ জুলাই, ২০২৩ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২/৪৮ ও ০/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মোহাম্মদ সিরাজের বোলিংয়ের দাপটে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

২০২৩-২৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। রোহিত শর্মা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ৩ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/০ ও ২/৫৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। মোহাম্মদ সিরাজের অসাধারণ বোলিং শৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা তিনদিন বাকী থাকতেই ৭ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এ পিচটিকে খেলার অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়।

একই মৌসুমে নিজ দেশে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৪৪ ও ১/২৬ বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জসপ্রীত বুমরা’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে ঐ টেস্টে তাঁর দল ১০৬ রানে জয়লাভ করে ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফেরে।

সম্পৃক্ত পোস্ট