২৩ মে, ১৯৭৪ তারিখে লিচেস্টারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘রোস্টার’ কিংবা ‘ডাজ্জা’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন। থার্মাস্টনভিত্তিক রাউন্ডহিল এবং সিস্টনভিত্তিক রিক ভ্যালিতে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ার ও ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ১৯৯৬ ও ১৯৯৮ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে যথার্থ ভূমিকা রাখেন।
লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে দারুণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের সুবাদে ১৯৯৮ সালে ইংল্যান্ডের ওডিআই দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন।
১৯৯৮ থেকে ২০০৭ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট, আটটিমাত্র ওডিআই ও চারটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২১ মে, ১৯৯৮ তারিখে ওভালে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ১৯৯৯ সালে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৯ আগস্ট, ১৯৯৯ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। এড গিডিন্সের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৪ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ক্রিস কেয়ার্নসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮৩ রানে পরাজয়বরণ করলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টগুলোয় বেশ হিমশিম খান। চার ইনিংস থেকে ৪৬ রান তুলেন ও ১৪ ওভার বোলিং করে কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৪ জানুয়ারি, ২০০০ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ও ছেড়ে দেয়া খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ৩ রান সংগ্রহ করে রান-আউটে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ২ উইকেটে জয়লাভ করলেও সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ওডিআইগুলোর মধ্যে শেষ খেলায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫৩ রান তুলেছিলেন। ওডিআইয়ে তাঁর বিচিত্রমুখী স্ট্রোক-প্লে বেশ দর্শনীয় ও নজরকাড়া ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরে ইংল্যান্ড দলে খেলার জন্যে মনোনীত হন। এ প্রতিযোগিতায় নিজের স্বর্ণালী সময়ে অবস্থান করেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১ বল থেকে ৫০ রান ও ২/৬ লাভ করেন।
পেশাদারী পর্যায়ে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু, ঘরোয়া পর্যায়ের সাফল্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচ্ছুরিত করতে পারেননি। উঁচু স্তরের ক্রিকেট থেকে দূরে সড়ে আসার পর দৃশ্যতঃ কাউন্টি ক্রিকেটে চলে আসার প্রাক্কালে টি২০ ক্রিকেটের অগ্রযাত্রায় খেলোয়াড়ী জীবনের পুণরুজ্জীবন ঘটান। প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এ স্তরের ক্রিকেটে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ২০০৪ ও ২০০৬ সালের টি২০ প্রতিযোগিতায় লিচেস্টারশায়ারের শিরোপা বিজয়ী দলের প্রধান সদস্য ছিলেন।
২০০৭ সালে বিতর্কিত ঘটনার প্রেক্ষিতে লিচেস্টারশায়ার থেকে ওয়ারউইকশায়ারে চলে আসেন। এপ্রিল, ২০০৭ সালে হিথ স্ট্রিকের পদত্যাগের ফলে ওয়ারউইকশায়ারের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। ২০০৮ সালে দলের উত্তরণ ঘটান। আঘাতের কারণে কিছু সময় বাইরে থাকলেও ২০১৩ সাল পর্যন্ত খেলেছিলেন।
