৯ অক্টোবর, ১৯৩৫ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৫৪-৫৫ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সব মিলিয়ে ওয়েলিংটনের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বারো মৌসুম খেলেছেন। ১৯৬০-৬১ মৌসুমে অকল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১১৮ রান তুলেন।
১৯৬১ থেকে ১৯৬৩ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। দলের সদস্যরূপে তিন নম্বর অবস্থানে মাঠে নামতেন। টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটা তাঁর চমৎকারভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। চার খেলায় অংশ নিয়ে ৩০ গড়ে ২৪০ রান তুলতে সমর্থ হন। ৮ ডিসেম্বর, ১৯৬১ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ফ্রাঙ্ক ক্যামেরন, আর্টি ডিক, গ্যারি বার্টলেট ও ডিক মোৎজের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক খেলাতেই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে ৫৪ ও ২৩ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ৩০ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। এরপর সিরিজের চূড়ান্ত খেলায় নিজস্ব প্রথম শতরানের সন্ধান পান।
একই সফরের ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬২ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৫৪ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। ২৭৬ মিনিটে ২০টি চারের মারে ১০৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ২ রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। খেলা শেষ হবার মাত্র ২১ মিনিট পূর্বে সফরকারীরা ৪০ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে শেষ হয়। প্রসঙ্গতঃ এ জয়ের ফলে নিউজিল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো একটি সিরিজে দুই জয়ের সন্ধান পায়। এ সাফল্যের পুণরাবৃত্তি ঘটে ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে।
তাঁর কাছ থেকে অধিক প্রত্যাশা ছিল। সিরিজে সমতা এনে দেশে ফিরে আসেন। তবে, অভিষেক সিরিজের ন্যায় নিজ দেশে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেকে আর মেলে ধরতে পারেননি। তিন টেস্ট থেকে সর্বসাকুল্যে মাত্র ৪৫ রান তুলতে পেরেছিলেন। ১৯৬২-৬৩ মৌসুমে নিজ দেশে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৫ মার্চ, ১৯৬৩ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১১ ও ১২ রান তুলে উভয় ক্ষেত্রে ব্যারি নাইটের শিকারে পরিণত হন। সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এরপর আর তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়নি। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম শেষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
