৯ জুন, ১৯৩৭ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার জর্জটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
সেন্ট স্টানিস্লাস কলেজে পড়াশুনো করেন। বিদ্যালয়ে থাকাকালে উইট কাপে স্মরণীয় সাফল্য পান। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ও দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলিং করতেন। বলকে উভয় দিক দিয়ে সুইং করাতে পারতেন ও বিপজ্জ্বনক বাউন্স মারতে পারতেন। আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজাতেন। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম থেকে ১৯৬২-৬৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ব্রিটিশ গায়ানা ও ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে ব্রিটিশ গায়ানার সদস্যরূপে সফররত পাকিস্তানী একাদশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। ৪/৭৭ লাভ করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে সাঈদ আহমেদের উইকেট পান ও খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়। পরের মৌসুমে বার্বাডোসের বিপক্ষে দূর্দান্ত খেলেন। ৪/১১৭ লাভের পাশাপাশি শতরানের ইনিংস খেললেও তাঁর দল পরাজয়ের কবলে পড়েন। ১২০ রানের এ ইনিংসটিই তাঁর একমাত্র শতক ছিল। ১৯৬২-৬৩ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফিতে পলি উমরিগড়ের নেতৃত্বাধীন বোম্বে দলের শিরোপা বিজয়ে প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন।
১৯৬২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। কলিন ক্রফ্টের পূর্বে সর্বশেষ গায়ানীয় ফাস্ট বোলার হিসেবে টেস্টে অংশ নেন। সবগুলো টেস্টই ভারতের বিপক্ষে খেলেছেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে নিজ দেশে নরি কন্ট্রাক্টরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬২ তারিখে পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জ্যাকি হেনড্রিক্সের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৩/৬৫ ও ১/২০ নিয়ে স্বাগতিক দলকে ১০ উইকেটের জয়ে ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
সাবিনা পার্কের দ্বিতীয় টেস্টে এমএল জয়সীমা’র উইকেট পান। উইকেট-রক্ষক মেন্ডোঙ্কা’র সাথে ৭৪ রানের জুটি গড়েন। নিজ করেন ৩৫ রান। এ টেস্টে সফরকারীরা ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয়। এছাড়াও, খেলায় প্রথমবারের মতো পাঁচ গায়ানীয় – রোহন কানহাই, ল্যান্স গিবস, সলোমন, মেন্ডোঙ্কা ও চার্লি স্টেয়ার্স খেলেছিলেন।
একই সফরের ৪ এপ্রিল, ১৯৬২ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৩ ও ১/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৭ উইকেটে পরাভূত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
খুব কমই নিজেকে মেলে ধরতে পেরেছিলেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে ওয়েস হল ও চেস্টার ওয়াটসনের সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়েছিল। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন শেষ হয়ে যায়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছেন। ২৬ গড়ে ৬৮ উইকেট দখল করেন ও ২৯ গড়ে ৪৮৫ রান তুলেন। অধিকাংশ খেলাই ব্রিটিশ গায়ানার পক্ষে খেলেছিলেন। এছাড়াও, ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে এনফিল্ডের পক্ষে এক মৌসুম খেলেন। ৬ জানুয়ারি, ২০০৫ তারিখে লন্ডনে ৬৭ বছর ২১১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর মৃত্যুর কয়েকদিন পরই কানাডার টরন্টোয় রবার্ট ক্রিস্টিয়ানি’র দেহাবসান ঘটে।
