১১ মে, ১৯৪১ তারিখে ভিক্টোরিয়ার জিলং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘রেডার্স’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর সুনাম ছিল। এছাড়াও, ব্যতিক্রমীধর্মী অসম্ভব মনোযোগ ও কৌশলগতভাবে দক্ষতা বজায় রেখে অসাধারণ স্লিপ ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে উইকেটের সর্বত্র শট খেলতেন। পরবর্তীতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটান।
১৯৬১-৬২ মৌসুম থেকে ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন সরব রেখেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, সাউথ মেলবোর্নে খেলেছেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটা বেশ সাধারণমানের ছিল। সৌভাগ্যবশতঃ ভিক্টোরিয়ার পক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। শক্তিধর নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে কভার অঞ্চল দিয়ে খেলার চেষ্টা চালান।
১৯৬৪ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৬৬ টেস্ট ও পাঁচটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে নিজ দেশে ট্রেভর গডার্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১ জানুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে মেলবোর্নের এমসিজিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৯৭ রান সংগ্রহ করেন ও অল্পের জন্যে শতক হাঁকানো থেকে বঞ্চিত হন। প্রায় ছয় বছর পর টেস্টে শতরানের সন্ধান পান। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫ রান তুলেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৬৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪১ ও ২১ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে এডি বার্লো’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। ২৩৩ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৬৯-৭০ মৌসুমে বিল লরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের অন্যতম সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৩ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ২০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৪ ও ৭৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ১২৯ রানে পরাজয়বরণ করলে সফরকারীরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৭০-৭১ মৌসুমে ওয়াকা টেস্টে জন স্নো’র তাণ্ডবে ব্যাটিংস্তম্ভ ভেঙ্গে পড়লে তিনি রুখে দাঁড়ান। গ্রেগ চ্যাপেলকে সাথে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে ২১৯ রান যোগ করে স্বাগতিক দলকে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে যান।
১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১ মার্চ, ১৯৭৪ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি ১৯ ও ৯৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩১ জানুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। অসাধারণ ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি ১০১ ও ৭০ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১৬৫ রানে জয় পেলে ৫-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
টেস্টগুলো থেকে আট শতক সহযোগে ৪৩.৪৬ গড়ে ৪৭৩৭ রান তুলেছেন। ১৯৬০-এর দশকে নির্বিকারচিত্তে ইনিংস উদ্বোধনে অগ্রসর হতেন। গ্রেগ চ্যাপেলের পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থানে ছিলেন। অস্ট্রেলীয় ধনকুবের ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় ১৯৭৭ সালে বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিদ্রোহী দলের সদস্যরূপে অংশ নেন। গ্রেগ চ্যাপেল একবার মন্তব্য করেছিলেন যে, ‘ইয়ান রেডপাথ ও রড মার্শের কারণে অগণিত ক্রিকেটার ব্যাগি গ্রীন ক্যাপ লাভ করা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’
১৯৭৫ সালে রাণীর জন্মদিনের সম্মাননা হিসেবে ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এমবিই উপাধীতে ভূষিত হন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ভিক্টোরিয়া দলকে প্রশিক্ষণ দেয়ার পর কয়েক মৌসুমে জিলংয়ের কোচ ছিলেন। মৎস্য শিকার ও চিত্রকর্মে অবসর সময় ব্যয় করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। দ্বিতীয় অ্যাশেজ সফরে পরিচিত হন। এজি রেডপাথ নামীয় সন্তানের জনক। ১ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে ভিক্টোরিয়ায় ৮৩ বছর ২০৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
