১ জানুয়ারি, ১৯৪৪ তারিখে ত্রিনিদাদের বেলমন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৬০-৬১ মৌসুম থেকে ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৭ বছর বয়সে ১৯৬০-৬১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন।

ধারাবাহিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে তাঁকে উচ্চ স্তরের ক্রিকেটে অংশ নেয়ার সুযোগ এনে দেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে শেল শীল্ডে দারুণ খেলেছিলেন। সফররত ইংরেজ একাদশের বিপক্ষে ১৫৮ রানের ইনিংস খেলে টেস্ট দলে জায়গা করে নেন। ১৯৬৯ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে সহস্রাধিক রান তুলেন। ১৯৭০ মৌসুমেও একই ধারাবাহিকতার পুণরাবৃত্তি ঘটান। এ পর্যায়ে দেড় সহস্রাধিক রান তুলেছিলেন।

১৯৬৮ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। এ সিরিজে একটিমাত্র খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৬৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। রয় ফ্রেডরিক্সপ্রফ অ্যাডওয়ার্ডসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৮ ও ১০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৯৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ৩০ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনতে সমর্থ হয়।

১৯৬৯ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। লর্ডসে নিজস্ব তৃতীয় শতরানের ইনিংস খেলেন। পুরো সিরিজে এটিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের একমাত্র তিন অঙ্কের রান সংগ্রহ ছিল। প্রায় ৫০-এর মাঝামাঝি কোটায় থেকে রান পেয়েছেন। এরপর নিজ দেশে ভারতের বিপক্ষে অপূর্ব খেলেন। চার টেস্ট থেকে ১৩২.২৫ গড়ে ৫২৯ রান পেয়েছিলেন। এ পর্যায়ে দুইটি শতক ও তিনটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন।

পরের মৌসুমে আবারও নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ-টেস্টে অংশ নিয়ে একটি শতক হাঁকান ও ৫৮.২৫ গড়ে রান পেয়েছিলেন। মাত্র চারটি খেলায় অংশ নেয়ার পরপরই ব্রিজটাউনে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৮৩ রান তুলেছিলেন।

১৯৭২-৭৩ মৌসুমে নিজ দেশে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২১ এপ্রিল, ১৯৭৩ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৫ ও ৩৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২২ ও ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

খাঁটি মানসম্পন্ন মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রত্যেকবারই উইকেট থেকে বিরাট রান তুলেছেন। ব্যতিক্রমধর্মী ব্যাটিং করলেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে অধিক টেস্টে অংশ নিতে পারেননি। তবে, সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়। খুব কম সময়ই বল হাতে নিতেন। তাসত্ত্বেও, তাঁর মিডিয়াম পেস বোলিং প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বেশ উপযোগী ও কার্যকরী ছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট